আগামী হজ মৌসুমে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী নিবন্ধনে ন্যূনতম কোটা পূরণ করতে পারেনি ১৮৬টি এজেন্সি, এর মধ্যে ৩২টি একজন হজযাত্রীও নিবন্ধন করেনি। হজ ব্যবস্থাপনার নেতৃত্বে থাকা কয়েকটি লিড এজেন্সিও নিজেদের কোটার ধারেকাছে যেতে পারেনি বলে সমকালের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এবার ২৮টি লিড এজেন্সির ন্যূনতম কোটা দুই হাজার করে এবং ৬৮৪টি সমন্বয়কারী এজেন্সির ন্যূনতম কোটা ৪৪ জন। ছয়টি হজ অ্যালায়েন্স দুই হাজারের কোটা পূরণ করতে পারেনি। একটি লিড এজেন্সির দায়িত্ব অ্যালায়েন্সের হজযাত্রীদের ভিসা, আবাসন, খাবার, পরিবহন, মিনা-আরাফায় তাঁবু, লাগেজ, হারিয়ে যাওয়া হজযাত্রী খোঁজা, জরুরি চিকিৎসা ও অভিযোগ নিষ্পত্তি সমন্বয় করা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা।
লিড এজেন্সির তালিকায় থাকা মারহামাহ এয়ার ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরস নিবন্ধন করেছে মাত্র ৩৯ জন, অথচ একই অ্যালায়েন্সের সমন্বয়কারী মোশাররফ ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস করেছে ৫২১ জন এবং জাবাল-ই নূর ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস ৩০৫ জন; অ্যালায়েন্সের ৩৩টি সমন্বয়কারী এজেন্সিই মারহামাহর চেয়ে বেশি হজযাত্রী পেয়েছে। মারহামাহর জিএম এম গোলাম মর্তুজা বলেন, মালিক সৌদি আরবে থাকায় প্রচারণা চালানো যায়নি; সৌদি সরকার অতিরিক্ত কোটা দিলে নিবন্ধন বাড়বে বলে আশা তাঁদের।
হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন ২০২৭ অনুযায়ী, কোটা পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির হজযাত্রীদের লিড এজেন্সির আওতায় অন্য যোগ্য এজেন্সিতে স্থানান্তর করতে হবে। নিবন্ধনের শেষ দিন ২৪ সেপ্টেম্বরের আগেও মন্ত্রণালয় এজেন্সিগুলোকে সতর্ক করেছিল। ২০২৬ সালে ৯৮টি এজেন্সি একজন হজযাত্রীও না পাওয়ায় তাদের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, পরে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) অনুরোধে আবার যুক্ত করা হয়।
ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, লিড এজেন্সির সক্ষমতা ও হজযাত্রী বেশি হওয়া উচিত; হাব ৩৩টি এজেন্সির নাম দিয়েছিল, সৌদি সরকার ২৮টিকে অনুমতি দিয়েছে। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার বলেন, বিষয়টি শুনে তিনি অবাক; ৫২১ জন নিবন্ধন করা এজেন্সিরই লিড হওয়ার আবেদন করা উচিত ছিল। সরকার সৌদি সরকারের কাছে অতিরিক্ত সাড়ে ১৭ হাজার হজযাত্রীর কোটা চেয়েছে; আবেদন নিষ্পত্তির পর যারা কোটা পূরণ করতে পারবে না, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, লিড এজেন্সি মন্ত্রণালয় বা হাব ঠিক করেনি, এজেন্সিগুলো নিজেরা আলোচনা করে ঠিক করেছে; সব এজেন্সিকে হজ কার্যক্রমে রাখার পক্ষে হাব। হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার বলেন, ৪৪ জনের কম নিবন্ধন করা এজেন্সি সমন্বয়কারী হিসেবে গণ্য হবে না।
ছবি: Press Information Department / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)