জাহেলিয়াতের যুগে অনেকের কাছে কন্যাসন্তান ছিল লজ্জার, কেউ কেউ কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবরও দিত। দেশ রূপান্তরের ইসলাম পাতার একটি লেখা মনে করিয়ে দেয়, সেই সমাজে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মা, স্ত্রী, কন্যা ও বোন হিসেবে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিজের কন্যাদের প্রতি ভালোবাসায় দৃষ্টান্ত রাখেন। তাঁর কন্যা ছিলেন চারজন।
জয়নব (রা.) ছিলেন জ্যেষ্ঠ কন্যা, জন্ম ৬০০ খ্রিস্টাব্দে। খালাতো ভাই আবুল আস ইবনে রাবির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়, সন্তান আলি ও উমামা। ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইন্তেকাল করেন, দাফন হয় মদিনার জান্নাতুল বাকিতে।
রুকাইয়া (রা.) নবীজি (সা.) ও খাদিজা (রা.)-এর দ্বিতীয় কন্যা, জন্ম নবুয়তের সাত বছর আগে। ইসলাম গ্রহণের পর আবিসিনিয়া ও পরে মদিনায় হিজরত করায় তাঁকে বলা হয় ‘জাতুন হিজরাতাইন’, দুই হিজরতের অধিকারী। হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়; পুত্র আবদুল্লাহ শৈশবে মারা যান। ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
উম্মে কুলসুম (রা.) তৃতীয় কন্যা, জন্ম নবুয়তের ছয় বছর আগে মক্কায়। আবু লাহাবের ছেলে উতবাহর সঙ্গে প্রথম বিয়ে ইসলাম গ্রহণের পর ভেঙে যায়। পরে নবীজির নির্দেশে হজরত উসমান (রা.)-এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়; দুই কন্যাকে বিয়ে করায় উসমান (রা.) ‘জিন্নুরাইন’, দুই নুরের অধিকারী উপাধি পান। উম্মে কুলসুম (রা.) ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।
ফাতেমা (রা.) ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ ও নবীজির অত্যন্ত প্রিয় কন্যা। সহিহ মুসলিমের হাদিসে (২৪৫০) আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, ফাতেমা (রা.) এলে নবীজি তাঁকে স্বাগত জানাতেন, হাত ধরে চুমু দিতেন ও পাশে বসাতেন। চাচাতো ভাই হজরত আলি ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়; সন্তান হাসান, হুসাইন, জয়নব ও উম্মে কুলসুম। ১১ হিজরিতে মদিনায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
ছবি: Mardetanha / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0); মদিনার জান্নাতুল বাকি
সূত্র: দেশ রূপান্তর




মন্তব্য
(০)