ইসলামে মেহমানদারির গুরুত্ব যেমন আছে, তেমনি অতিথিরও কিছু দায়িত্ব আছে। প্রথম আলোর ধর্ম বিভাগে আলেম ও গবেষক রায়হান আল ইমরান কোরআন ও হাদিসের আলোকে অন্যের বাড়িতে অতিথি হলে মনে রাখার ছয়টি বিষয় তুলে ধরেছেন।
প্রথমত, ঘরে ঢুকে সালাম দেওয়া। সুরা নূরের ৬১ নম্বর আয়াতে ঘরে প্রবেশের সময় পরস্পরকে সালাম দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। লেখকের ভাষায়, সালাম শুধু অভিবাদন নয়, এটি ইবাদত এবং মুসলিম ভ্রাতৃত্বের প্রকাশ। দ্বিতীয়ত, আগে অনুমতি নেওয়া। সুরা নূরের ২৭ নম্বর আয়াতে অনুমতি ছাড়া অন্যের ঘরে ঢুকতে নিষেধ করা হয়েছে; এখন একটি ফোন বা খুদে বার্তায় আগেই সময় ঠিক করে নেওয়া সহজ।
তৃতীয়ত, অতিথির উপস্থিতি যেন স্বাগতিকের কাছে বোঝা বা ক্ষতির কারণ না হয়; অন্যের ক্ষতি করা ইসলামে নিষিদ্ধ, নিজের সুবিধার জন্য অন্যের শান্তি নষ্ট করা মুমিনের কাজ নয়। চতুর্থত, খাবারের সমালোচনা না করা। ইবনে মাজাহর হাদিসে (৩২৫৫) এসেছে, নবীজি (সা.) কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না; পছন্দ হলে খেতেন, না হলে রেখে দিতেন।
পঞ্চমত, বেশি দিন না থাকা। সহিহ বুখারির হাদিসে (৬১৩৫) রাসুল (সা.) বলেছেন, বিশেষ সমাদর এক দিন এক রাত, মেহমানদারি তিন দিন, এর পর যা তা সদকা; আর মেহমানের জন্য এমনভাবে থাকা বৈধ নয় যাতে স্বাগতিক কষ্ট পান। সময়মতো বিদায় নেওয়াও স্বাগতিকের প্রতি সম্মান।
ষষ্ঠত, বিদায়ের সময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। আবু দাউদের হাদিসে (১৬৭২) উপকারের প্রতিদান দেওয়ার কথা এসেছে। লেখক মনে করিয়ে দেন, প্রতিদান সব সময় বস্তুগত নয়; আন্তরিক ধন্যবাদ, দোয়া কিংবা ‘আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন’ বলাও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ।
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)