নবীজি (সা.)-এর বাবা আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিবের কবর কোথায়, ইতিহাসের গ্রন্থ ঘেঁটে তার খোঁজ দিয়েছেন মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক। প্রথম আলোর ধর্ম পাতার সিরাত বিভাগে প্রকাশিত লেখায় তিনি দেখিয়েছেন, মদিনায় বনু নাজ্জার গোত্রের এলাকায় নাবিগার গৃহেই আবদুল্লাহকে দাফন করা হয়েছিল।
সিরাতগ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী, আবদুল্লাহ বাণিজ্য উপলক্ষে সিরিয়া গিয়েছিলেন। কোরাইশ কাফেলার সঙ্গে মক্কায় ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে তিনি মদিনায় থামেন এবং সেখানেই মারা যান। কারও মতে, আবদুল মুত্তালিব তাঁকে খেজুর আনতে মদিনায় পাঠিয়েছিলেন। লেখক সাফিউর রহমান মুবারকপুরির আর-রাহিক আল-মাখতুম এবং তাবারির ইতিহাসগ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়েছেন; তাবারির বর্ণনায় আছে, নাবিগার গৃহে ঢুকে বাঁ দিকের দ্বিতীয় ঘরের দোরগোড়ায় ছিল আবদুল্লাহর কবর।
বনু নাজ্জার ছিল নবীপরিবারের আত্মীয় গোত্র। নবীজির প্রপিতামহ হাশেম এই গোত্রে বিয়ে করেছিলেন; বনু নাজ্জার আবদুল মুত্তালিবের নানার গোষ্ঠী। ইবনে সাদের বর্ণনা অনুযায়ী, ছয় বছর বয়সে মা আমিনার সঙ্গে নবীজি মামাদের কাছে মদিনায় বেড়াতে এসে নাবিগার গৃহে এক মাস ছিলেন। পরে বনু আদি ইবনে নাজ্জারের দুর্গ দেখে সেই দিনগুলোর কথা তাঁর মনে পড়েছিল। ফেরার পথে আবওয়ায় মা আমিনা মারা যান, তাঁর কবর সেখানেই।
হিজরতের পর মদিনায় নবীজির উট যেখানে প্রথম বসে, সেই জায়গাই পরে মসজিদে নববীর স্থান হয়। জায়গাটির মালিক সাহল ও সোহায়েল নামের দুই এতিম বালকও ছিলেন বনু নাজ্জারের; জায়গাটি তখন তাঁদের খেজুর শুকানোর চাতাল। নবীজি সাত মাস ছিলেন এই গোত্রের আবু আইয়ুব আনসারির বাড়িতে। সহিহ বুখারির হাদিসে আনসারদের মধ্যে বনু নাজ্জারের গৃহকে সর্বোত্তম বলা হয়েছে।
লেখকের হিসাবে, নবীজি মদিনায় আসার সময় সেখানে ৭২টি দুর্গ ছিল; তিনি এগুলো ভাঙতে নিষেধ করেন এবং মদিনার সৌন্দর্য বলে ঘোষণা করেন। পরে মুসলিমেরা আরও ৫৬টি দুর্গ গড়লে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১২৮টিতে। সময়ের সঙ্গে দুর্গগুলো মাটির সঙ্গে মিশে যায়, সড়ক তৈরিতে বিলীন হয়।
লেখায় একটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ১৯৭৯ সালে জান্নাতুল বাকি গোরস্থান সম্প্রসারণের সময় বনু নাজ্জারের সেই দুর্গ ভেঙে ফেলা হয় এবং আবদুল্লাহর কবর গোরস্থানের অন্তর্ভুক্ত হয়। লেখার শেষে মা আমিনার রচিত শোকগাথার অনুবাদ উদ্ধৃত হয়েছে।
ছবি: Kerina yin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)