আসামের গোয়ালপাড়া জেলার বাড়ির কুয়া থেকে বিজ্ঞানে নতুন দুই প্রজাতির মাছ বর্ণনা করা হয়েছে, যা ব্রহ্মপুত্র প্লাবনভূমির নিচের জলস্তরের জীবনের বিরল এক চিত্র দেয় বলে জানিয়েছে মোঙ্গাবে ইন্ডিয়া। একটি গিচাক নাকানা (Gitchak nakana), প্রায় দুই সেন্টিমিটারের অন্ধ এক লোচ মাছ, যার স্বচ্ছ দেহের কারণে তাকে রক্তলাল দেখায়; অন্যটি রক্তমিকথিস আনচি (Rakthamichthys anchi), কুঁচেজাতীয় সরু, বানের মতো মাছ।
দুটিই পাওয়া গেছে স্থানীয় এক বাসিন্দা থেকে গবেষক হয়ে ওঠা উইমারিথি কে মারাকের কারণে। বহু বছর ধরে তিনি পাড়ার কুয়ায় ছোট গোলাপি ‘কৃমি’ দেখতেন; ২০২১ সালে ছবি তুলে তত্ত্বাবধায়ককে পাঠান, আর সেই বছরের মার্চে নমুনা সংগ্রহ হয়। ২০২৪ সালের মে মাসে তাঁর এক আত্মীয় কুয়া সেচতে গিয়ে দ্বিতীয় প্রজাতিটি পান; এর মূল নমুনা প্রায় ৩১০ মিলিমিটার লম্বা। জার্মান মৎস্যবিজ্ঞানী রাল্ফ ব্রিটজের নেতৃত্বে এ বছর দুটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে, মাইক্রো-সিটি স্ক্যান হয়েছে জার্মানিতে।
কুয়াগুলো পলিমাটির স্তরে, যা দ্রুত বদলায়; ব্রিটজের মতে ভূগর্ভবাসী মাছের জন্য এটি সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত আবাস। মাছগুলোর ক্ষতি হতে পারে এই আশঙ্কায় গবেষকেরা সঠিক স্থান প্রকাশ করেননি। নর্থ-ইস্টার্ন হিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ প্রেরণা দাস জানান, ব্রহ্মপুত্রের প্লাবনভূমিতে ৪০০ মিটার গভীর পর্যন্ত পাঁচ-ছয়টি জলস্তর রয়েছে।
সহলেখক, কেরালা ইউনিভার্সিটি অব ফিশারিজ অ্যান্ড ওশান স্টাডিজের রাজীব রাঘবন বলেন, মানুষ প্রায়ই এমন মাছকে কেঁচো বা সাপের বাচ্চা ভেবে মেরে ফেলে; তাঁর দল কেরালায় স্থানীয়দের সচেতন করতে কাজ করছে। তাঁর ধারণা, জলস্তরের চেয়ে কুয়ায় খাবার, আলো ও অক্সিজেন বেশি বলে মাছগুলো সেখানে আসে, আর একবার খেয়ে তারা মাসের পর মাস না খেয়ে থাকতে পারে।
রাঘবন বলেন, পানির মানের সামান্য বদলও সবার আগে টের পায় ভূগর্ভের মাছ; নিয়ন্ত্রণহীন দূষণ ও পানি তোলা চলতে থাকলে আবিষ্কারের আগেই বহু প্রজাতি হারিয়ে যেতে পারে। প্রেরণা দাস ঝুঁকি হিসেবে নগরায়ণ, দুর্বল পয়োনিষ্কাশন, কৃষি রাসায়নিক ও বর্জ্যের কথা বলেন। গবেষণায় যুক্ত না থাকা সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রান্ট হোস পরামর্শ দেন, পানি সেচে ফেলার পর কুয়ার পানিতে পরিবেশগত ডিএনএ পরীক্ষা করলে বোঝা যাবে জলস্তরে আসলে কোন প্রাণী থাকে।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন প্রিয়াঙ্কা শংকর (Priyanka Shankar)।
ছবি: R. Britz, W. K. Marak, K. Velentina et al. / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: মোঙ্গাবে ইন্ডিয়া





মন্তব্য
(০)