সরকার, দাতা ও উন্নয়ন সহযোগীরা নারীদের অন্তর্ভুক্তি না বাড়ালে বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থার ধারাবাহিক সংকটে নিম্ন আয়ের দেশের নারীরা পুরুষদের চেয়ে আরও বেশি পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে আছেন। আন্তর্জাতিক কৃষি গবেষণা জোট সিজিআইএআরের (CGIAR) জেন্ডার অ্যাক্সিলারেটরের নতুন এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
"অ্যাডভান্সিং ইকুয়ালিটি, ট্রান্সফর্মিং ফিউচারস" শিরোনামের প্রতিবেদনটি বলছে, গত এক বছরে জ্বালানি ও সারের সংকট, চরম আবহাওয়া ও বাণিজ্য বিঘ্নের ধাক্কা সবচেয়ে বেশি লেগেছে নারীদের গায়ে, যদিও টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ার কেন্দ্রে তাঁরাই। আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবসে, নারী কৃষকের আন্তর্জাতিক বছরে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনে পানির প্রাপ্যতা আরও কমবে, আর গবেষণার প্রমাণ বলছে এতে পানি সংগ্রহে নারীদের সময় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ২০৫০ সালের মধ্যে গ্রামের নারীরা ক্রমেই খামারের বাইরে খুচরা ব্যবসা, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহন খাতের কাজে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ভালো জীবিকার সুযোগ তৈরি হলেও এই পরিবর্তন সবার জন্য সমান হবে না বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
সমাধান হিসেবে প্রতিবেদনে নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং নারীদের কারিগরি প্রশিক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে সেসব সামাজিক রীতি বদলানোর উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে, যা বিনা পারিশ্রমিকের সেবার কাজের বোঝা নারীর ঘাড়ে চাপায় এবং তাঁদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সীমিত করে। প্রযুক্তির প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, কেনিয়ায় কাঠামোগত বাধার কারণে নারীরা পুরুষদের চেয়ে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কম ডিজিটাল জলবায়ু পরামর্শ সেবা পান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তি বড় পরিসরে চালুর আগে তা তৈরিতেই নারীদের যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সিজিআইএআরের নির্বাহী ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাহানে এলুয়াফি (Ismahane Elouafi) বলেন, "আগামী কয়েক বছরের সিদ্ধান্তই ঠিক করবে খাদ্য, ভূমি ও পানি ব্যবস্থা বেশি ন্যায্য হবে নাকি বেশি অসম, বেশি সহনশীল নাকি বেশি ভঙ্গুর।" জেন্ডার অ্যাক্সিলারেটরের পরিচালক নিকোলিন দে হান (Nicoline de Haan) বলেন, টুকরো টুকরো পদক্ষেপ নয়, ২০৫০ সালের মধ্যে বৈষম্য ঘোচাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের রূপরেখা দিয়েছে এই প্রতিবেদন।
ছবি: McKay Savage from London, UK / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)



মন্তব্য
(০)