মার্কিন খাদ্যপ্রযুক্তি স্টার্টআপ বিএমসি ইনগ্রেডিয়েন্টসকে (BMC Ingredients) তাদের মাইকোপ্রোটিন রাইজা ভারতে বিক্রির অনুমোদনপত্র দিয়েছে দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই)। ২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে সেখানে পণ্যটি বাজারে আনার পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানটির।
যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর ও কানাডার পর ভারত রাইজার অনুমোদন দেওয়া চতুর্থ দেশ। আগে দ্য বেটার মিট কো নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি নিউরোস্পোরা ক্রাসা ছত্রাক তরলে ডুবিয়ে গাঁজন করে রাইজা তৈরি করে। ইন্দোনেশিয়ার গাঁজানো খাবার অনকমের মতো খাদ্যে এই ছত্রাকের দীর্ঘ ব্যবহার আছে। গাঁজনের সময় ছত্রাকটি নিজেই চিবানোর উপযোগী ঘন আঁশের জাল তৈরি করে, তাই আলাদা নিষ্কাশনের দরকার হয় না: জৈববস্তু ছেঁকে, টুকরা করে, শুকিয়ে, কুচি করে চালনিতে ছেঁকে নেওয়া হয়।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, রাইজায় ৪৫ থেকে ৫১ শতাংশ প্রোটিন ও ৩০ শতাংশ আঁশ আছে। খাদ্য প্রস্তুতকারকদের কাছে এটি দুই রূপে বিক্রি হয়: মাংসের বিকল্প ও মিশ্র মাংসের জন্য টুকরা আকারে রাইজাটেক্স, আর দুধের বিকল্প, স্মুদি, বার, পাস্তা ও বেকারি পণ্যের জন্য গুঁড়া রাইজাপ্রো।
সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী পল শাপিরো (Paul Shapiro) বলেন, ভারতীয়রা আরও প্রোটিন চান, তবে তা মাংস বা হুইয়ের মতো প্রক্রিয়াজাত উপাদান থেকেই নিতে হবে এমন নয়। গ্রিন কুইন জানিয়েছে, ভারতে গাঁজনে তৈরি প্রোটিনের বাজার দ্রুত বাড়ছে, কয়েকটি ব্র্যান্ড এখন ইস্ট প্রোটিন পাউডার বিক্রি করে। আবার এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রোটিনের মান হিসাবে ধরলে ভারতীয় প্রাপ্তবয়স্কদের প্রোটিন ঘাটতির ঝুঁকি কম।
গত বছর ৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের সিরিজ এ বিনিয়োগ পাওয়া বিএমসি ইনগ্রেডিয়েন্টস স্যাক্রামেন্টোর প্রদর্শনী কারখানায় ৯,০০০ লিটারের বায়োরিঅ্যাক্টর চালায়। ২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকে এশিয়ার এক চুক্তিভিত্তিক প্রস্তুতকারক মাসে ১০০ টন শুষ্ক উৎপাদনে যাবে, তখনই ভারত ও কানাডায় রাইজা বাজারে আসার কথা। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আমেরিকা ও এশিয়ার মাংস উৎপাদকদের সঙ্গে তাদের পাঁচটি চুক্তি আছে, যা থেকে বছরে ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার আয়ের প্রত্যাশা। প্রতিবেদনটি লিখেছেন অনয় মৃদুল।
ছবি: Roland Gromes / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Green Queen




মন্তব্য
(০)