বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ৮ অক্টোবর সতর্ক করেছে, চলমান এল নিনো ১৯৫০ সালের পর অন্যতম শক্তিশালী হতে পারে, ২০২৬ সালের শেষে চূড়ায় উঠে তাপমাত্রা বাড়াবে ও বৃষ্টির ধরন বদলাবে। সরকারগুলো ফসল ও খাদ্য সরবরাহ রক্ষায় প্রস্তুতি নিচ্ছে, কিন্তু জেলে ও মাছচাষিরা সেই পরিকল্পনায় বাদ পড়ছেন, বলছে আন্তর্জাতিক মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডফিশ।
ওয়ার্ল্ডফিশের জলবায়ু ও পরিবেশ বিভাগের প্রধান ড. মিশেল টিগচেলার (Michelle Tigchelaar) এশিয়ায় এল নিনো নিয়ে এক ওয়েবিনারে বলেন, খাদ্যব্যবস্থার প্রস্তুতিতে মৎস্য ও জলজ চাষ প্রায়ই বাদ পড়ে। উদাহরণ দেন অক্টোবরের একটি দুর্ভিক্ষ পূর্বাভাস প্রতিবেদনের, যাতে ফসল, পশু ও খাদ্যমূল্যের কথা আছে, মাছের উল্লেখ নেই; আর আন্তর্জাতিক পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের এল নিনো ড্যাশবোর্ডেরও।
ঝুঁকি বাস্তব: সাগর উষ্ণ হলে মাছের বিচরণ বদলায়, খরা, বন্যা ও গরমে পুকুর, নদী ও হ্রদের চাষ ব্যাহত হয়। বিশ্বের জলজ প্রাণীর অর্ধেকের বেশি এখন আসে চাষ থেকে। অথচ ২০১৯ ও ২০২০ সালে খাদ্যব্যবস্থার জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নের মাত্র ১ শতাংশ গেছে মৎস্য খাতে, আর ৮৪টি দেশ ২০২০ সালের জলবায়ু অঙ্গীকারে জলজ খাদ্যের কথাই বলেনি।
পূর্বাভাসকে কাজে লাগানোর পথ পরীক্ষা করছে ওয়ার্ল্ডফিশ। খরার ঝুঁকিতে থাকা জাম্বিয়ায় ব্লু রেজিলিয়েন্স উদ্যোগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস সহজ মোবাইল বার্তায় চাষিদের ফোনে যায়, সঙ্গে গরম, পানির ঘাটতি ও ভারী বৃষ্টিতে খাবার, মজুত ও পুকুর ব্যবস্থাপনার পরামর্শ। পুকুরের পানির তাপমাত্রা ও অক্সিজেন মাপার সেন্সরও পরীক্ষা হচ্ছে, যার তথ্য পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলিয়ে আরও স্থানীয় পরামর্শ দেওয়া হবে।
জাম্বিয়ার মাছচাষি পেট্রোনেলা মুম্পাংওয়ে বলেন, 'গরম পড়লে পুকুর শুকিয়ে যায়, পানি না থাকলে মাছ মরে।' লেখাটি ওয়ার্ল্ডফিশের ডেভিড ওয়ার্ডেলের।
ছবি: Blex02002 (জাম্বিয়ার লুয়ানশিয়ার মাছের পুকুর) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: WorldFish





মন্তব্য
(০)