লোহিত সাগর থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত একটিই প্রজাতি বলে ধরা কাঁটাযুক্ত সিহর্স (সমুদ্রঘোড়া) আসলে তিনটি আলাদা প্রজাতি, জুট্যাক্সা সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা বলছে। ভারত মহাসাগরের নতুন প্রজাতিটির নাম হিপ্পোক্যাম্পাস আমান্ডাভিনসেন্টি (Hippocampus amandavincentae)। ২০১৯ সালে ভারতের তামিলনাড়ুর থুথুকুড়ি মৎস্যবন্দরে ট্রলারের বাইক্যাচে আসা ১৬ সেন্টিমিটারের দুটি নমুনা থেকে এটি শনাক্ত হয়।
গবেষণায় প্রশান্ত মহাসাগরের প্রজাতির নাম রাখা হয়েছে হিপ্পোক্যাম্পাস হিস্ট্রিক্স, আরব অঞ্চলেরটি হিপ্পোক্যাম্পাস জয়াকারি। নতুন প্রজাতির নাক ছোট, মুকুটে চারটির বদলে পাঁচটি কাঁটা, শরীর ও লেজের কাঁটা মোটা; জিনগতভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের প্রজাতি থেকে ৬-৭ শতাংশ আলাদা, জানান প্রধান লেখক ও ভারতের প্রাণিবিজ্ঞান জরিপ সংস্থার বিজ্ঞানী শালু কান্নান। মাদাগাস্কার, মোজাম্বিক ও সেশেলসের ছবি ও জিনতথ্য বলছে, প্রজাতিটি ভারত মহাসাগরজুড়ে ছড়ানো।
নমুনা এসেছে জেলেদের হাত ধরে। কেরালা মৎস্য ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির কাজে নমুনা জোগাড়ে কান্নানের এক বছরের বেশি লেগেছে; তাঁর ভাষায়, জেলেদের সাহায্য ছাড়া এ আবিষ্কার সম্ভব হতো না। প্রজাতিটির নাম রাখা হয়েছে প্রজেক্ট সিহর্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যামান্ডা ভিনসেন্টের নামে।
আবিষ্কারটি সিহর্সের ওপর চাপও সামনে এনেছে। ভারতের বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইনে সব সিহর্স ধরা ও বেচাকেনা নিষিদ্ধ, তবু দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে গোপন অবৈধ বাণিজ্য জোরালো, বলেন সহলেখক রাজীব রাঘবন। ২০২০ সালের এক গবেষণার হিসাবে ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালে ভারতে বছরে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ সিহর্স বাইক্যাচে ধরা পড়েছে, বেশির ভাগ বাছবিচারহীন জালে। গবেষক এ. মুরুগান বলেন, চিংড়ি ও নীল কাঁকড়ার মতো দামি মাছের আবাসেই সিহর্স থাকে, তাই বাইক্যাচ এড়ানো কঠিন, আর তলদেশের ট্রলজালে ধরা পড়লে খুব কমই বাঁচে।
রাঘবনের মতে, নতুন প্রজাতিটি সম্ভবত একমাত্র সিহর্স যা শুধু ভারত মহাসাগরেই আছে, আর এর বিস্তার বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের প্রধান মাছ ধরার এলাকার সঙ্গে মিলে যায়; তলদেশ ট্রলিং ও বাইক্যাচ নিয়ন্ত্রণ না হলে এটি অত্যন্ত বিপন্ন হতে পারে। এর সংখ্যা অজানা। নতুন বর্ণনায় ভারতের জলসীমায় সিহর্সের জানা প্রজাতি এখন সাতটি।
প্রতিবেদনটি মোঙ্গাবে ইন্ডিয়ার জন্য লিখেছেন প্রিয়াঙ্কা শংকর।
ছবি: Steve Childs (কাঁটাযুক্ত সিহর্স) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Mongabay India





মন্তব্য
(০)