খামারের বর্জ্য ফেলে না দিয়ে তা থেকে রান্নার গ্যাস তৈরি করছেন ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের নোয়াপুর গ্রামের পোলট্রি খামারিরা। আবদুল কাদের জিলানী, দেলোয়ার হোসেন, আব্দুল মোতালেব বাচ্ছু, নজির আহমেদ রসুল ও নুরুল আলমসহ নয়জন খামারি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট বসিয়েছেন, আর পাইপলাইনে সেই গ্যাস যাচ্ছে গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবারের চুলায়।
প্রযুক্তিটি সহজ। খামার থেকে সংগ্রহ করা মুরগির বিষ্ঠা রাখা হয় বদ্ধ ট্যাংকে। অক্সিজেন ছাড়া অণুজীব সেখানে জৈব পদার্থ ভেঙে বায়োগ্যাস তৈরি করে, যা পাইপে সংযুক্ত পরিবারগুলোর চুলায় পৌঁছায়। গ্যাস তৈরির পর ট্যাংকে থাকা অবশিষ্ট জৈব উপাদান প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
আবদুল কাদের জিলানী দুটি খামারে প্রায় আট হাজার মুরগি পালন করেন। প্রতিদিনের বিষ্ঠা থেকে তৈরি গ্যাসে নিজের পরিবারের রান্নার পাশাপাশি আশপাশের ১১টি পরিবারে গ্যাস দিচ্ছেন তিনি। তাঁর কথায়, আগে এই বর্জ্য সামলানোই ছিল বড় চিন্তা; এখন বর্জ্য কাজে লাগছে, রান্নার জ্বালানিও মিলছে।
খামারি দেলোয়ার হোসেন বলেন, মুরগির বিষ্ঠা শুধু ফেলে দেওয়ার জিনিস নয়, সঠিক প্রযুক্তিতে তা থেকে গ্যাস হয়। আব্দুল মোতালেব বাচ্ছুর মতে, বিষ্ঠা ঠিকমতো সামলানো না গেলে পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়ে, প্ল্যান্ট সেই বর্জ্য কাজে লাগানোর সুযোগ দিয়েছে। নজির আহমেদ রসুল চান, খামারিদের কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হোক, যাতে আশপাশের আরও খামার এ উদ্যোগে আসে।
গ্যাস ব্যবহারকারী স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, এই গ্যাসে রান্না করতে পারায় তাঁদের বিকল্প জ্বালানি মিলছে, খরচও সাশ্রয় হচ্ছে।
ফেনী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, মুরগির বিষ্ঠার মতো জৈব বর্জ্য সঠিক প্রযুক্তিতে ব্যবহার করে বায়োগ্যাস তৈরি সম্ভব, এতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিকল্প জ্বালানি দুটোই হয়। তবে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করিয়ে দেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, খামারিদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও সহজ অর্থায়ন পেলে গ্রামে এ প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো যায়।
প্রতিবেদন: বাংলা নিউজ ২৪-এর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট।
ছবি: বগুড়ার আরডিএতে বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের জন্য জমা রাখা গোবর (প্রতীকী), Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)