হাজার হাজার টাকার টিকা কিনে খামারি পুরো পাল টিকা দিলেন, কাজ শেষ। অথচ কয়েক মাস পর রোগ দেখা দিল। প্রথমেই দোষ পড়ে টিকার ওপর। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ কৃষি বিভাগের প্রাণিস্বাস্থ্য পরিচালক ড. নলুভুয়ো মাগাদলা (Noluvuyo Magadla) বলছেন, সমস্যা কদাচিৎ বোতলের ভেতরে থাকে। ফার্মার্স উইকলিকে তিনি বলেন, "টিকা পশুকে রক্ষা করে না; রক্ষা করে সঠিক টিকাদান পদ্ধতি।"
তাঁর ভাষায়, টিকাদান পদ্ধতি হলো পরিকল্পিত ও বারবার অনুসরণযোগ্য একটি ব্যবস্থা, যাতে সঠিক টিকা সঠিক পশুর কাছে সঠিক সময়ে ও সঠিক অবস্থায় পৌঁছায়। ব্যর্থতা আসে মূলত ব্যবস্থাপনা থেকে: পশু জড়ো করার সময় রোদে পড়ে থাকা টিকা, যথেষ্ট ঠান্ডা না রাখা কুলবক্স, দীর্ঘ যাত্রার ধকলের পরপরই টিকা দেওয়া, কিংবা ব্যস্ত মৌসুমে বুস্টার ডোজ ভুলে যাওয়া।
সবচেয়ে বড় কারণ কোল্ড চেইন ভেঙে যাওয়া। বেশির ভাগ টিকা সরবরাহকারীর কাছ থেকে পশুর শরীরে যাওয়া পর্যন্ত ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখতে হয়; অতিরিক্ত গরম বা জমে যাওয়ায় টিকা স্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে। তাঁর পরামর্শ, জমানো আইসপ্যাকসহ মজবুত কুলবক্সে টিকা বহন করা এবং সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখা। অসুস্থ, চাপে থাকা, অপুষ্ট, পানিশূন্য বা কৃমিতে ভরা পশুর রোগপ্রতিরোধী সাড়া দুর্বল হয়; তাই নতুন আনা পশুকে আগে ধাতস্থ হতে দেওয়াই ভালো।
খুঁটিনাটিও জরুরি। স্বয়ংক্রিয় সিরিঞ্জ নিয়মিত মাপজোখ ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে, সুই ঘন ঘন বদলাতে হবে: "একটি সুইয়ে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২টি পশু, সুই বেঁকে গেলে, ভোঁতা বা দূষিত হলে তার আগেই বদল।" গরুতে ইনজেকশন দিতে হয় ঘাড়ের পাশে, কাঁধের সামনে, যাতে দামি মাংসের অংশ নষ্ট না হয়। পোলট্রির টিকা প্রায়ই খাওয়ার পানি, স্প্রে বা চোখের ফোঁটায় দেওয়া হয়, তাই পানির মান আর পুরো ঝাঁকে সমানভাবে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ। অনেক টিকার দ্বিতীয় ডোজ লাগে, আর বাচ্চা পশুর মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি আগাম টিকায় বাধা দিতে পারে; তাই সময়সূচি ঠিক হবে প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শে।
নথি রাখাও কাজের অংশ: "নথিতে না থাকলে কার্যত তা ঘটেইনি।" প্রতিবার তারিখ, টিকার নাম, ব্যাচ নম্বর, মেয়াদ, মাত্রা, পশুর পরিচয় ও যিনি দিলেন তাঁর নাম লিখতে হবে। মাগাদলার মতে, ভালোভাবে সংগঠিত সমবায়ী টিকা অভিযান দুর্বল ব্যবস্থাপনার বাণিজ্যিক খামারকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। আর টিকা একাই সব সমাধান নয়: খুরারোগের মতো রোগে এর পাশাপাশি জৈব নিরাপত্তা, পশু চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি, কৃমি দমন ও নজরদারি লাগে। ডিজিটাল নথি ও তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ যন্ত্র এর মধ্যেই খামারিদের সাহায্য করছে বলে জানান তিনি।
ছবি: Cgoodwin (a calf in a cradle awaiting vaccination and an earmark) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Farmers Weekly South Africa





মন্তব্য
(০)