ভারতসহ এশিয়াজুড়ে খাঁচামুক্ত ডিম কেনার কর্পোরেট প্রতিশ্রুতি বাড়ছে। তবে কৃষি জাগরণে প্রকাশিত এক কলামে এলিসা লেইন (Elissa Lane) লিখেছেন, এর সাফল্য নির্ধারিত হবে খামারে, বোর্ডরুমে নয়। মতামত লেখকের নিজস্ব।
তাঁর মতে, মুরগিকে খাঁচা থেকে বের করা মূলত একটি কৃষি রূপান্তর: নতুন ঘর, ভিন্ন ধরনের ঝাঁক ব্যবস্থাপনা, কর্মীদের নতুন প্রশিক্ষণ আর নতুন বিনিয়োগ। তাই অগ্রগতি নির্ভর করে খামারিদের জ্ঞান, কারিগরি সহায়তা, বাজারের স্পষ্ট চিত্র ও আর্থিক সামর্থ্যের ওপর। খামারিদের পরিবর্তনের নিছক গ্রহীতা না ভেবে অংশীদার হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
দক্ষতার প্রশ্নে লেইন প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও প্রদর্শনী খামারের কথা বলেছেন, যেখানে খামারিরা খাঁচামুক্ত ব্যবস্থা চোখে দেখে অন্যদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারেন। খামারভেদে ঘর, শ্রম ও অবকাঠামো অনেক আলাদা, তাই খামারে গিয়ে পরামর্শ এবং স্থানীয় ভাষায় প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
কলামে বলা হয়েছে, শুধু প্রশিক্ষণ যথেষ্ট নয়। খামারিদের নিশ্চিত হতে হবে যে তাঁদের ডিম কেউ কিনবে, আর কোম্পানিগুলোর দরকার নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী। ক্রয়ের শর্ত, পরিমাণ ও সময়সীমা নিয়ে আগেভাগে ক্রেতা ও উৎপাদকের আলোচনা হলে খামারিরা বুঝতে পারবেন বিনিয়োগ লাভজনক হবে কি না, ক্রেতারাও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করতে পারবেন।
লেইন আর্থিক সহায়তার কথাও বলেছেন: সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে ওঠার সময়ে চাহিদা ধরে রাখার প্রণোদনা, আর ঘর, যন্ত্রপাতি ও সনদের খরচ মেটাতে ঋণসুবিধা। তাঁর ভাষায়, খামারির কাছে প্রশ্নটা শুধু খাঁচামুক্ত উৎপাদন প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব কি না তা নয়, দীর্ঘ মেয়াদে তা লাভজনক কি না।
উৎপাদক সমিতি ও যৌথ প্ল্যাটফর্ম খাত গঠনে খামারিদের কণ্ঠ পৌঁছে দেয় বলেও মনে করেন তিনি। তাঁর উপসংহার, প্রতিশ্রুতি গতি আনে, কিন্তু টেকসই পরিবর্তনের জন্য দরকার এমন ব্যবস্থা, যা খামারে কাজ করে, অর্থনৈতিকভাবে টেকে এবং খামারিকে স্থির চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করে।
ছবি: Humphrey Bolton / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: কৃষি জাগরণ





মন্তব্য
(০)