বীজ বোনা, আগাছা দমন, মাঠ পর্যবেক্ষণ ও স্প্রের জন্য নতুন নতুন কোম্পানি আসায় ফসলের রোবট এখনো কৃষি উদ্ভাবনের সবচেয়ে সক্রিয় খাতগুলোর একটি; জন ডিয়ার থেকে এজিসিও পর্যন্ত বড় যন্ত্র নির্মাতারাও প্রবৃদ্ধি পরিকল্পনায় প্রযুক্তিকে কেন্দ্রে রাখছে। এ চিত্র উঠে এসেছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দ্য মিক্সিং বোল (The Mixing Bowl)-এর ২০২৬ সালের ফসল-রোবট মানচিত্রে, ২০২২ সাল থেকে যা প্রতি দুই বছরে প্রকাশ হয়। খবরটি দিয়েছে এজিনেভিগেটর।
২০২৬ সংস্করণে বিশ্বের ৪০০টি কোম্পানি রয়েছে, যা ২০২৪ সালের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি; এর ৩৬ শতাংশই মানচিত্রে নতুন। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ কোম্পানি বাজার ছেড়েছে। মোট কোম্পানির অর্ধেক ইউরোপের, যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ শতাংশ; যুক্তরাষ্ট্রের ফসল-রোবট কোম্পানির ৪০ শতাংশ ক্যালিফোর্নিয়ায়। কোম্পানিগুলোকে প্রযুক্তি (যেমন স্বয়ংক্রিয় চালনা, ফসল তোলা, স্মার্ট স্প্রে) এবং ফসলের ধরন (স্থায়ী, বিশেষায়িত, সারিবদ্ধ ও ঘরের ভেতরের চাষ) অনুযায়ী ভাগ করা হয়েছে।
বেটার ফুড ভেঞ্চার্সের অংশীদার ও মানচিত্রের অবদানকারী মাইকেল রোজ (Michael Rose) বলেন, রোবটের ব্যবহার অনেকটাই প্রযুক্তির ধরনের ওপর নির্ভর করে। স্বয়ংক্রিয় চালনা ও দিকনির্ণয় প্রযুক্তি সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে; সারিবদ্ধ ফসলের ট্রাক্টর ও কম্বাইন হারভেস্টারে এটি বহুদিন ধরে পুরোপুরি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিবেদনে স্প্রে প্রযুক্তির প্রবৃদ্ধি এবং রোবট প্ল্যাটফর্ম ও বাহকের শক্ত পাইপলাইনের কথাও এসেছে।
রোজের মতে, ভবিষ্যতের খামার পুরোপুরি মানুষহীন হবে না; স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা আর হাতের কাজ মিলিয়ে একটি মিশ্র মডেলই বেশি সম্ভাব্য। তিনি বলেন, স্টার্টআপগুলোকে কৃষকের কাছাকাছি থাকতে হবে; সিলিকন ভ্যালিতে বসে কোম্পানি বানিয়ে বাজারে বিক্রি করা যায় না।
ভেঞ্চার বিনিয়োগ স্থিতিশীল ছিল; মানচিত্রের কোম্পানিগুলো দুই বছরে ৬০ কোটি ডলার তুলেছে। এগ্রিটেক উন্মাদনার চূড়ার তুলনায় বিনিয়োগ কমে যাওয়াকে রোজ পরিণত হয়ে ওঠা বাজারের স্বাভাবিক লক্ষণ বলে বর্ণনা করেন, যখন প্রাথমিক পর্যায়ের বিনিয়োগ অন্য খাতে সরে যায়। তাঁর প্রশ্ন, এই খাতের চাহিদা মেটাতে আর কতগুলো কোম্পানি দরকার?
ছবি: PaulineCant / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এজিনেভিগেটর





মন্তব্য
(০)