নিউজিল্যান্ডে থ্রিজি মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হওয়ার পর কৃষকেরা চালু থাকা খামার-প্রযুক্তিও বদলাতে এবং বিকল্প সংযোগের জন্য বাড়তি টাকা গুনতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষক সংগঠন ফেডারেটেড ফার্মার্সের এক জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন অ্যাগনেভিগেটরের আমান্ডা লিম। চলতি বছরের মার্চে থ্রিজি বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
জরিপকৃত অর্ধেক খামারে এখন জমির অর্ধেকেরও কম অংশে মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়, আর প্রতি তিনজন কৃষকের একজন খামারের যেসব জায়গায় আগে থ্রিজি পেতেন সেখানে সংকেত হারিয়েছেন। প্রতি সাতটি খামারের একটিকে থ্রিজি-নির্ভর যন্ত্র বদলাতে হয়েছে; কেউ কেউ সচল যন্ত্র বদলাতে হাজার হাজার ডলার খরচ করেছেন।
প্রতি তিনজনের দুজন স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ডের মতো বিকল্পে টাকা দিয়েছেন, কিন্তু মাত্র ১৫ শতাংশ মনে করেন স্যাটেলাইট থেকে মোবাইল সেবা মোবাইল টাওয়ারের যথেষ্ট বিকল্প। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বলেছেন, খামারের বেশিরভাগ জায়গা থেকে তাঁরা নির্ভরযোগ্যভাবে জরুরি সেবায় ফোন করতে পারেন না; ৪০ জনের বেশি কৃষকের জমিতে এমন কোনো জায়গাই নেই যেখান থেকে নিয়মিত জরুরি নম্বর ১১১-এ ফোন যায়। এক কৃষক জানিয়েছেন, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের শর্ত পূরণ করতে না পারায় তিনি কর্মস্থল নিরাপত্তা নিরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন।
সংগঠনের টেলিযোগাযোগ বিষয়ক মুখপাত্র মার্ক হুপার বলেন, "কৃষকের জন্য দুর্বল টেলিযোগাযোগ মানে অর্ধেক সিলিন্ডার বিকল ইঞ্জিন নিয়ে গাড়ি চালানো।" তাঁর অভিযোগ, কৃষকদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল থ্রিজির এলাকায় ফোরজি ও ফাইভজি আসবে, কিন্তু সেই আশ্বাস ফাঁপা প্রমাণিত হয়েছে।
আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত জরিপটি চলে। নেটওয়ার্ক বা নির্ভরযোগ্যতার সমস্যা জানানো ১২৬টি খামারের মধ্যে মাত্র দুটির সমস্যার সমাধান হয়েছে।
ফেডারেটেড ফার্মার্স এখন টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জরুরি আলোচনা করছে। হুপার মানছেন, স্যাটেলাইট কলিং আসার মুখে নতুন টাওয়ারের মতো "পুরোনো প্রযুক্তিতে" বড় বিনিয়োগের যুক্তি কঠিন, তবে এখনকার অবকাঠামো ঠিকঠাক করে অন্তত থ্রিজির সময়ের সেবার মান ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ছবি: Pseudopanax / উইকিমিডিয়া কমন্স (public domain)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)