জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং পূর্ব আফ্রিকার আন্তঃসরকার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আইজিএডি) অঞ্চলের দেশগুলোকে প্রস্তুতি ও নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। এল নিনোর কারণে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় রিফট ভ্যালি জ্বরের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বাড়ছে।
রিফট ভ্যালি জ্বর ভেড়া, ছাগল, গরু, মহিষ ও উটের তীব্র ভাইরাসজনিত রোগ, যা মানুষকেও আক্রান্ত করতে পারে। মশা এই রোগ ছড়ায়, আক্রান্ত পশুর চলাচলে তা আরও দূরে যায়, আর আক্রান্ত পশু বা পশুজাত পণ্যের সরাসরি সংস্পর্শে মানুষও আক্রান্ত হতে পারে। বন্যায় মশার প্রজননস্থল বাড়ে, পশুচিকিৎসা সেবাও ব্যাহত হতে পারে। এফএও বলছে, প্রায় রেকর্ড শক্তির এবারের এল নিনো ১৯৯৭-৯৮ সালের মতো, যখন পূর্ব আফ্রিকায় রিফট ভ্যালি জ্বরের সবচেয়ে বড় মহামারিগুলোর একটি হয়েছিল।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ইথিওপিয়া, কেনিয়া, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, তানজানিয়া ও উগান্ডা। বুরুন্ডি ও রুয়ান্ডায়ও ঝুঁকি বাড়ছে। কমোরোস, উত্তর মাদাগাস্কার, মায়োত, দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদি আরব ও পশ্চিম ইয়েমেনে ঝুঁকি কম হলেও বাড়ছে।
সবচেয়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দক্ষিণ ইথিওপিয়া, কেনিয়া এবং মধ্য ও দক্ষিণ সোমালিয়ায়, যেখানে ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি। স্যাটেলাইটের তথ্য, জলবায়ু পূর্বাভাস ও রোগ নজরদারির তথ্য মিলিয়ে তিন মাস আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে এফএওর রিফট ভ্যালি জ্বরের আগাম সতর্কতা সহায়ক প্রযুক্তি। এর হিসাবে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে অঞ্চলের বড় অংশে রোগ ছড়ানোর উপযোগী অবস্থা বাড়বে। এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা তানজানিয়ায়, এরপর ইথিওপিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ সুদান ও সুদানের দক্ষিণাঞ্চলে।
এফএও ও আইজিএডি আক্রান্ত দেশগুলোকে ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারি বাড়াতে, আগেভাগে টিকা ও জরুরি সামগ্রী মজুত রাখতে এবং ওয়ান হেলথ পদ্ধতিতে খাত ও সীমান্তের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে বলেছে। সতর্কবার্তাটি এসেছে এফএওর তিন দশকের বেশি পুরোনো পশুস্বাস্থ্যের বৈশ্বিক আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা এফএও-এমপ্রেসের মাধ্যমে।
পশুপালকদের জন্য এর মানে, বৃষ্টির পর পশুর রোগের লক্ষণে নজর রাখা এবং প্রাদুর্ভাবের আগেই টিকা দেওয়া, কারণ ভেজা আবহাওয়া আর পশুর চলাচল মিলে রোগ নিয়ন্ত্রণ কঠিন করে তোলে।
সূত্র: এফএও নিউজরুম




মন্তব্য
(০)