অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড রাজ্যের আঁটালিমুক্ত অঞ্চলে টারুমের (Taroom) কাছে একটি খামারে আবার গবাদিপশুর আঁটালির প্রাদুর্ভাব ধরা পড়েছে। এতে কঠোর জৈবনিরাপত্তা নিয়ম ও সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি নতুন করে উঠেছে। বিফ সেন্ট্রালে খবরটি দিয়েছেন লিডিয়া বার্টন।
কয়েকটি গরু মারা যাওয়ার পর পশুচিকিৎসক এসে গরুর গায়ে আঁটালি পান। পরে পুরো পাল জড়ো করে রক্ত খেয়ে ফুলে ওঠা আঁটালি পাওয়া যায়, কয়েকটি অসুস্থ গরুর প্রস্রাবের রংও বদলে গিয়েছিল। খামারটি আগের একটি আক্রান্ত খামারের পাশেই। গত বছর এর গরু পরীক্ষা করে পরিষ্কার পাওয়া যায় এবং সাবধানতা হিসেবে ওষুধ দেওয়া হয়। আঁটালি পাশের খামার থেকে এসেছে, না কেনা গরুর সঙ্গে, তা জানা যায়নি।
খামারমালিক বলেন, তিনি এই ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়েছেন। তিনি চান আক্রান্ত খামারের প্রতিবেশী খামারগুলোর ওপর ২০১৬ সালের আগের মতো বাধ্যতামূলক বিধিনিষেধ ফিরিয়ে আনা হোক এবং প্রাদুর্ভাবের সময় প্রাথমিক শিল্প বিভাগের আঁটালি বিশেষজ্ঞরাই গরু পরিষ্কারের কাজ করুন। সাবেক সরকারি পশু পরিদর্শক ডগ স্টুয়ার্ট, যিনি টারুমে ওষুধের ডুবকি চৌবাচ্চা চালান, জানান, আগের নিয়মে প্রতিবেশীদের গরু পরিদর্শনে আনতে হতো এবং সরানোর আগে চৌবাচ্চায় ডুবিয়ে পরিষ্কার করতে হতো।
জুলাইয়ে কুইন্সল্যান্ড সরকার একটি পর্যালোচনার সুপারিশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে আছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তিনজন নতুন জৈবনিরাপত্তা পরিদর্শক এবং বেসরকারি সনদদাতা ব্যবস্থার সংস্কার, কারণ পরিষ্কার সনদ পাওয়া আঁটালিযুক্ত গরু বারবার হাটে আসছিল। প্রাথমিক শিল্প বিভাগ জানিয়েছে, আঁটালিমুক্ত অঞ্চলে এখন ২৫৫টি খামার বিধিনিষেধের আওতায়, মার্চে যা ছিল ২২৯টি।
বায়োসিকিউরিটি কুইন্সল্যান্ড জানিয়েছে, টারুমের খামারটি বিধিনিষেধের আওতায় আছে এবং কর্মকর্তারা পাল পরীক্ষা ও পশু চলাচলের খোঁজ নেবেন। এলাকার কয়েকজন খামারি এখন কেনা প্রতিটি গরু নিজের খামারে নেওয়ার আগে চৌবাচ্চায় ডুবিয়ে নিচ্ছেন।
বৃষ্টি ও উষ্ণ আবহাওয়ায় আঁটালি বেশি সক্রিয় হয়। একজন পশুচিকিৎসক খামারিদের সতর্ক থাকতে বলেছেন: বসন্ত ও গ্রীষ্মে আঁটালি সবচেয়ে সক্রিয়, আর হঠাৎ গরু মারা যাওয়া টিক ফিভারের লক্ষণ হতে পারে। আঁটালি সন্দেহ হলে নমুনা রেখে স্থানীয় জৈবনিরাপত্তা কর্মকর্তাকে জানাতে বলা হয়েছে।
ছবি: CSIRO / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Beef Central




মন্তব্য
(০)