কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জৈবপ্রযুক্তি ও ফসল বিজ্ঞান একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে খরা, প্রচণ্ড তাপ, মাটির অবক্ষয়, লবণাক্ততা ও রোগ সহ্য করতে পারে এমন আলু ও ধানের জাত তৈরিতে নেমেছে ইউরোপের নতুন গবেষণা প্রকল্প বায়োক্রাফট (BIOCRAFT)। চার বছর মেয়াদি প্রকল্পটির কাজ শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের অক্টোবরে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের হরাইজন ইউরোপ কর্মসূচির আওতায় ইউরোপিয়ান ইনোভেশন কাউন্সিলের ইআইসি পাথফাইন্ডার তহবিল থেকে প্রকল্পটি পেয়েছে ৩৮ লাখ ১০ হাজার ইউরো। সমন্বয় করছে জার্মানির ফ্রাউনহোফার ইনস্টিটিউট ফর মলিকিউলার বায়োলজি অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড ইকোলজি (Fraunhofer IME)।
কীভাবে কাজ হবে: ৪৮ মাস ধরে গবেষকেরা উন্নত জৈবপ্রযুক্তি, এআই-নির্ভর বিশ্লেষণ, ফসল পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি এবং শিকড়ের চারপাশের অণুজীব নিয়ে গবেষণা এক জায়গায় আনবেন। লক্ষ্য হলো ফসলের কোথায় উন্নতির সুযোগ আছে তা খুঁজে বের করা, তারপর পরিবেশগত ও জৈবিক চাপ সহনশীল আলু ও ধানের জাত তৈরি ও মাঠে যাচাই করা, যাতে ফলন ঠিক থাকে এবং পুষ্টিমানও বাড়ে।
প্রকল্প সমন্বয়ক অধ্যাপক স্টেফান শিলবার্গ (Stefan Schillberg) বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ইউরোপজুড়ে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য জরুরি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তাঁর ভাষায়, বায়োক্রাফটের মাধ্যমে এমন সমাধান তৈরি হচ্ছে যা ফসলকে চাপ সামলাতে সাহায্য করবে এবং টেকসই জৈব-উৎপাদনের নতুন সুযোগও খুলবে।
প্রকল্পের দ্বিতীয় দিকটি হলো ফসলকে মূল্যবান জৈব-অণু তৈরির "জৈব কারখানা" হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই। খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি এটি ইউরোপের জৈবপ্রযুক্তি খাতের জন্য নতুন পথ হতে পারে বলে মনে করছে অংশীদারেরা।
জার্মানি, পর্তুগাল, স্পেন ও ইতালির প্রতিষ্ঠানগুলো এতে যুক্ত: কেপিএমজি পর্তুগাল, এসজিএস পর্তুগাল, আইরিস টেকনোলজি সলিউশনস, অ্যাগ্রোটেকনিও, সাপিসে সোসিয়েতা অ্যাগ্রিকোলা, এডিভি আরোস দে পালস ও নাভারা পাবলিক ইউনিভার্সিটি। জার্মান বীজ কোম্পানি কেডব্লিউএস সাট সহযোগী অংশীদার। নতুন প্রজন্মের ফসল প্রযুক্তি ঘিরে আইনি, পরিবেশগত ও সামাজিক প্রশ্নও প্রকল্পে খতিয়ে দেখা হবে।
এই জাত কৃষকের মাঠে পৌঁছাবে কি না, তা নির্ভর করবে গবেষণার ফল আর ইউরোপের নিয়ন্ত্রক কাঠামোর ওপর। খবরটি কেপিএমজির সংবাদ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে প্রকাশ করেছে সিড ওয়ার্ল্ড ইউরোপ।
ছবি: Norbert Schnitzler / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Seed World Europe





মন্তব্য
(০)