ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে নতুন করে শুরু হওয়া লড়াই আপাতত দেশটির কফি উৎপাদন বা রপ্তানিতে প্রভাব ফেলবে না বলে ফুডনেভিগেটরকে জানিয়েছেন পণ্যবাজার বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম এক্সপানা (Expana) ও ডাচ ব্যাংক রাবোব্যাংকের বিশ্লেষকেরা। দেশটির কফি অঞ্চল মূলত রাজধানী আদ্দিস আবাবার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, তিগ্রাই, আফার ও আমহারা অঞ্চলের বর্তমান সংঘাত থেকে অনেক দূরে।
আরাবিকা কফির জন্মভূমি ইথিওপিয়া রাবোব্যাংকের হিসাবে বিশ্বের প্রায় ৪.৪ শতাংশ কফি এবং ৭.৭ শতাংশ আরাবিকা উৎপাদন করে; মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্যে এটি আফ্রিকার বৃহত্তম ও বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম কফি উৎপাদক। এক্সপানার হিসাবে ২০২৬/২৭ মৌসুমে উৎপাদন হবে ৯৫ লাখ বস্তা, যার প্রায় ৬৭ লাখ বস্তা রপ্তানি হবে; একই মৌসুমে বিশ্বে উৎপাদনের পূর্বাভাস ১৯ কোটি ৩০ লাখ বস্তা। ইথিওপিয়ার কফির ২৫-৩০ শতাংশ দেশেই পান হয়।
এক্সপানার তথ্য বলছে, ২০২০-২০২২ সালের তিগ্রাই যুদ্ধেও কফি রপ্তানি কমেনি; রপ্তানি আগের বছরগুলোর মতোই ছিল এবং যুদ্ধ শেষে বেড়েছে। এক্সপানার কফি বিশ্লেষণের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক অলিভার ব্রস্টার (Oliver Broster) বলেন, সাধারণভাবে রপ্তানির সংখ্যায় প্রভাব ছিল খুবই সীমিত।
ব্রস্টারের মতে, লড়াই উত্তরে সীমিত থাকলে উৎপাদনে কোনো প্রভাব পড়ার কথা নয়। আদ্দিস আবাবার কাছাকাছি এলে বন্দরে কফি পাঠানো এবং স্থানীয় মজুত ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সমস্যা হতে পারে, যদিও তা মাপা কঠিন; ২০২১ সালে তিগ্রাইয়ের বাহিনী রাজধানীর ৮৫ মাইলের মধ্যে চলে এসেছিল।
স্থলবেষ্টিত ইথিওপিয়া বেশির ভাগ কফি রপ্তানি করে প্রতিবেশী জিবুতি হয়ে। রাবোব্যাংকের কৃষিপণ্য বাজার গবেষণা প্রধান কার্লোস মেরা (Carlos Mera) বলেন, এই পথ সম্ভবত নিরাপদ, যদিও সংঘাত আগে থেকে বলা কঠিন। ব্রস্টার জানান, আদ্দিস আবাবা থেকে জিবুতির সড়ক ও রেলপথ এখন লড়াই থেকে অনেক দূরে, তাই বিশ্ববাজারে কফির সরবরাহ ও দামে প্রভাব নামমাত্র হওয়ার সম্ভাবনা।
ফুড অ্যান্ড ল্যান্ড ইউজ কোয়ালিশনের তথ্যমতে, কফির ওপর নির্ভরশীল ইথিওপিয়ার লাখো কৃষক এমনিতেই পুরোনো গাছ, কমতে থাকা উৎপাদনশীলতা, জলবায়ু পরিবর্তন, রোগবালাই ও অর্থায়নের সীমিত সুযোগের সমস্যায় আছেন।
ছবি: DFID / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: FoodNavigator





মন্তব্য
(০)