গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ফসল, ভবন ও যন্ত্রপাতির ঝুঁকি বাড়ায় ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যজুড়ে খামারে অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ১৫ কোটি পাউন্ডের ক্ষতি হয়েছে, অর্থাৎ দিনে ৪ লাখ পাউন্ডের বেশি। কৃষি বিমা প্রতিষ্ঠান এনএফইউ মিউচুয়ালের সর্বশেষ খামার অগ্নিকাণ্ড প্রতিবেদনে এ তথ্য এসেছে।
ফসল, ভবন ও খামারের সরঞ্জামে আগুনের ক্ষতি ১৮ শতাংশ বেড়ে ১১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড হয়েছে, কৃষিযানে আগুনে ক্ষতি আরও ৩ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড; এর মধ্যে ট্রাক্টরে ১ কোটি ৬১ লাখ ও কম্বাইন হারভেস্টারে ৪৮ লাখ পাউন্ড। জানা কারণগুলোর মধ্যে প্রধান ছিল ইচ্ছাকৃত আগুন, বজ্রপাত ও বৈদ্যুতিক ত্রুটি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি পূর্ব ইংল্যান্ডে, ৮৭ লাখ থেকে প্রায় তিন গুণ বেড়ে ২ কোটি ৩৯ লাখ পাউন্ড; এরপর দক্ষিণ-পশ্চিমে ১ কোটি ৮২ লাখ ও উত্তর-পূর্বে ১ কোটি ৬৩ লাখ পাউন্ড। উত্তর আয়ারল্যান্ডে ক্ষতি ৭৩ শতাংশ বেড়েছে।
এনএফইউ মিউচুয়ালের গ্রামীণ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হানা বিনস বলেন, ২০২৫ সালের রেকর্ড গরম ও রোদ এবং ২০২৬ সালের দীর্ঘ শুষ্ক সময়ে গ্রামাঞ্চলে, বিশেষ করে ফসল কাটার মৌসুমে, আগুনের ঝুঁকি নজিরবিহীন। তাঁর মতে, প্রতিরোধের দায় শুধু কৃষকের নয়। কৃষক সংগঠন এনএফইউর সহসভাপতি রবিন মান্ট বলেন, গ্রামীণ দমকল বাহিনীর জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ও উপযুক্ত যান দরকার, আর ঝুঁকির সময় বারবিকিউ ও ক্যাম্পফায়ার নিষিদ্ধ করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে আদেশ জারি করতে হবে। খামারে পানির সহজ প্রাপ্যতা ও জাতীয় দাবানল কৌশলও চেয়েছে দুই সংগঠন।
প্রতিবেদনের একটি ঘটনায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সারের গিল্ডফোর্ডের কাছে কম্বাইনের সম্ভাব্য স্ফুলিঙ্গ থেকে ৫১ একর শীতকালীন গমের খেতে আগুন লাগে; জোরালো বাতাসে ৩০ মিনিটে প্রায় ৮০ শতাংশ ফসল পুড়ে যায়। কৃষক জিম সিমন্স জানান, কেউ আহত হননি, বিমার টাকাও পেয়েছেন।
এনএফইউ মিউচুয়ালের পরামর্শ: খামারের সবাই জানে এমন একটি অগ্নি পরিকল্পনা রাখুন; বৈদ্যুতিক লাইন রক্ষণাবেক্ষণ করুন; ঝালাই ও গ্রাইন্ডিংয়ের মতো স্ফুলিঙ্গের কাজ নিয়ন্ত্রণে রাখুন; আগুন নেভানোর ব্যবস্থা ও পানির ট্যাংক প্রস্তুত রাখুন; আর যন্ত্রপাতি থেকে ধুলা ও আবর্জনা পরিষ্কার রাখুন। কম্বাইনে স্বীকৃত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বসালে প্রতিষ্ঠানটি বিমায় ছাড় দেয়।
ছবি: Judd McCullum / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly




মন্তব্য
(০)