সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১২ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা৩২°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৪৮%বাতাস ৬ কিমি/ঘ

টপ ওয়ার্কিংয়ে এক গাছে হাজার সায়ন: অসময়ের কাটিমন আমে বছরে ৩০০-৪০০ কোটি টাকা

২০১৪ সালে এক হেক্টরেরও কম জমিতে শুরু হওয়া থাই বারোমাসি জাত কাটিমন এখন চার জেলায় ৪,৭৫৭ হেক্টরে; পুরোনো গাছে গ্রাফটিং করে অসময়ে আম ফলিয়ে কৃষকেরা মৌসুমের চেয়ে তিন থেকে দশ গুণ দাম পাচ্ছেন।

আমের মূল মৌসুম আগস্টে শেষ হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের কানসাট বাজারে সেপ্টেম্বরেও শত শত ভ্যানে আম আসছে। এর বড় অংশ থাইল্যান্ডের বারোমাসি জাত কাটিমন, আর এর পেছনে আছে পুরোনো গাছে নতুন জাতের সায়ন জুড়ে দেওয়ার কৌশল টপ ওয়ার্কিং। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন বলছে, কৃষকেরা এখন একটি গাছে ৫-৬টির বদলে ৫০০ থেকে এক হাজার সায়ন লাগাচ্ছেন, ফলে সারা বছর আম মিলছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে, ২০১৪ সালে রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে কাটিমনের চাষ ছিল এক হেক্টরেরও কম জমিতে; ২০২৫-২৬ মৌসুমে তা দাঁড়িয়েছে ৪,৭৫৭ হেক্টরে, যার ৪,৪৬২ হেক্টরই চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বছরব্যাপী ফল উৎপাদন ও পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের তৎকালীন পরিচালক মেহেদী মাসুদ জানান, ২০১৪ সালে দুই হাজার চারা হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে বিতরণ করে শিবগঞ্জের কৃষকদের সারা বছর আম ফলানো শেখানো হয়েছিল; তখন অনেকে গাছ কেটে ফেলার পরামর্শ দিলেও এখন এ আম সারা দেশে ছড়িয়েছে, আর এর কৃতিত্ব কৃষকদের।

দামও চোখে পড়ার মতো। ১৯ সেপ্টেম্বর কানসাটে কাটিমন বিক্রি হয়েছে মণপ্রতি ৭,০০০ থেকে ৭,৫০০ টাকায়, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ১৭-১৮ হাজার, আশ্বিনা ৫-৬ হাজার আর বারি-১১ আট থেকে দশ হাজার টাকায়; মূল মৌসুমে এসব আম ১,২০০ থেকে ৩,০০০ টাকা মণে বিক্রি হয়। খুচরায় কাটিমনের কেজি এ বছর ১৫০-১৮০ টাকা, দুই-তিন বছর আগে যা ছিল ৩০০-৪০০ টাকা। শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নয়ন মিয়া জানান, কানসাটে প্রতিদিন ৪৫০ থেকে ৫০০ টন কাটিমন বিক্রি হচ্ছে, গড় বাজারমূল্য ৬-৭ কোটি টাকা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদের হিসাবে মৌসুমের বাইরে বছরে ৩০০-৪০০ কোটি টাকার কাটিমন বিক্রি হয়, আর এ বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫০০-৭০০ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে।

কৃষকেরা কৌশলও বদলাচ্ছেন। ১২ বিঘা বাগানের মালিক হাসান আলী ফজলি, আশ্বিনা ও গুটি গাছে কাটিমনের সায়ন লাগিয়েছেন, কারণ ওসব জাতে আর লাভ হয় না। মোবারকপুরের আব্দুর রাকিব বলেন, ক্ষীরশাপাতি গাছে কাটিমনের সায়ন লাগিয়ে পরিচর্যা করলে মাতৃগাছ ও কলম দুটিতেই মুকুল আসে, দুই জাতের আম একসঙ্গে মেলে। দড়িচক বিলের হাশেম আলী জানান, মূল মৌসুমে ব্যানানা আমের প্রথম ফুল ভেঙে দিলে পরিচর্যায় দুই মাস পর আবার ফুল আসে।

তবে আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের (আম গবেষণা কেন্দ্র) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. শরফ উদ্দিন সতর্ক করেছেন, মুকুল ভাঙা ও ফুল আসার আগে হরমোন প্রয়োগে কিছু সাফল্য এলেও সবাই এক কাজ করলে সফল হবেন এমন নিশ্চয়তা নেই; মৌসুমে মুকুল ভাঙলে কোনো গাছে আর ফুল নাও আসতে পারে। জিনগতভাবে দেরিতে ফল দেওয়া জাতে পরীক্ষা করলে সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি।

সামনে আরও নাবি জাত আসছে। শরফ উদ্দিন জানান, বারি আম-৩ ও বারি আম-৪ থেকে উদ্ভাবিত হাইব্রিড বারি আম-১৯ অবমুক্তির পর্যায়ে, এর শক্ত বোঁটা ঝড়ে ক্ষতি কমাবে, বাজারে আসবে ১৫ জুলাই থেকে আগস্টের মাঝামাঝি। আম্রপালি ও ল্যাংড়া থেকে উদ্ভাবিত আরেকটি হাইব্রিড বারি আম-২০ হিসেবে আসতে পারে, যা আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত থাকবে; দুটিই আগামী এক বছরে অবমুক্ত হতে পারে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক মো. খালেদুর রহমান জানান, ভারতে কাননভোগ ও লেট আম্রপালি নামে পরিচিত দুটি নাবি জাতের চারা দুই-তিন বছর পর্যবেক্ষণ করে মানানসই হলে প্রচার করা হবে।

সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার

দ্য ডেইলি স্টারসূত্র

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

মৌসুম পেরিয়েও মাচায় ঝুলছে তরমুজ, ৪৮ শতাংশে ১,৪৫০ ফল গলাচিপার পলাশের

পটুয়াখালীর গলাচিপায় মাছের ঘেরের পাড় ও উঁচু জমিতে মাচা পদ্ধতিতে অসময়ের তরমুজ চাষ বাড়ছে; চর বিশ্বাসে ৪৮ শতাংশ জমিতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচে ১,৪৫০টি তরমুজ ফলিয়েছেন পলাশ মোল্লা।

দেশ রূপান্তর১৩ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

পরিত্যক্ত জমি লিজ নিয়ে চার একরে সাগর কলা, ৮-১০ লাখ টাকা বিক্রির আশা বোয়ালমারীর হাফিজুরের

ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সৈয়দপুরে পরিত্যক্ত জমি লিজ নিয়ে সাগর ও চাপাসব্রি জাতের ২,৭০০ কলাগাছ লাগিয়েছেন হাফিজুর রহমান সরদার; আড়াই লাখ টাকা খরচে এর মধ্যে লাখ টাকার কলা বিক্রি হয়েছে।

জাগো নিউজ ২৪১২ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ছাদকৃষি

ইউটিউব দেখে ছাদে আর আঙিনায় ড্রাগন, বছরে লাখ টাকা লাভ মতলবের বিদেশফেরত হানিফের

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে বাড়ির ১,৪০০ বর্গফুট ছাদে ও সাড়ে ৬ শতক আঙিনায় ২০২৪ সালে ড্রাগন লাগিয়েছিলেন ৬২ বছরের আবু হানিফ; এখন বছরে লাখ টাকার বেশি লাভ করছেন, এবার ইজারা নিয়েছেন আরও ৬০ শতক জমি।

প্রথম আলো১২ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)