ইংল্যান্ডে টেকসই চাষ প্রণোদনা (সাসটেইনেবল ফার্মিং ইনসেনটিভ বা এসএফআই) কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাটি মূল্যায়নের জন্য ৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের বেশি দেওয়া হলেও সেই মূল্যায়নের ফল নিয়মিত সংগ্রহ করা হয়নি। ফলে দেশের মাটির স্বাস্থ্যের একটি জাতীয় চিত্র তৈরির সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের কৃষি সাময়িকী ফার্মার্স উইকলি।
২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৭৪ হাজার ৬১৭টি খামার প্রতিষ্ঠান এসএফআইয়ের মাটি মূল্যায়ন কার্যক্রমে অংশ নেয়, যার আওতায় ছিল ১ কোটি ৯ লাখ হেক্টরের বেশি জমি। কৃষকেরা মাটি মূল্যায়ন, মাটি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি এবং মাটির জৈব পদার্থ পরীক্ষার জন্য অর্থ পেয়েছেন।
সাসটেইনেবল সয়েলস অ্যালায়েন্স তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করে জানতে পারে, এসব মূল্যায়ন, পরিকল্পনা ও পরীক্ষার ফল কৃষকদের কাছ থেকে নিয়মিত সংগ্রহ করা হয়নি; রুরাল পেমেন্টস এজেন্সি কেবল পরিদর্শনের সময় মাঝেমধ্যে তথ্য চেয়েছে। সংগঠনটির পরিচালক ম্যাথিউ অরম্যান বলেন, এসএফআইয়ের তথ্য জাতীয় চিত্রে বড় অবদান রাখতে পারত, কিন্তু কর্মসূচির মূল নকশাতেই ফল সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সরকার মাটির তথ্য উন্নত করার অঙ্গীকার করেছে। পরিবেশ ও কৃষি মন্ত্রণালয় ডেফরার ২০২৫ সালের পরিবেশ উন্নয়ন পরিকল্পনায় ২০২৮ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডের অন্তত ৪০ শতাংশ কৃষিজমির মাটি টেকসই ব্যবস্থাপনায় আনার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৬০ শতাংশে তোলার লক্ষ্য আছে। ২০২৯ সালের মধ্যে মাটির তথ্যের মান ও সহজলভ্যতা বাড়ানো এবং মাটির স্বাস্থ্যের একটি ভিত্তিরেখা তৈরির কথাও আছে। ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত প্রথম জাতীয় মাটি স্বাস্থ্য সূচকগুলো, যাতে মাটির কার্বন ও পানিপ্রবাহের ঝুঁকির মতো বিষয় আছে, এখনো অন্তর্বর্তীকালীন।
২০২১ সালের পরিবেশ আইনে ডেফরাকে পরিবেশগত লক্ষ্যের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে হয়, তবে প্রতিটি এসএফআই খামার থেকে মাটি মূল্যায়নের নথি সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা আইনে নেই। মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদন বলছে, বৃহত্তর ভিত্তিরেখা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এসএফআই কার্যক্রমে অংশগ্রহণকেই টেকসই মাটি ব্যবস্থাপনার মাপকাঠি ধরা হবে।
ডেফরার একজন মুখপাত্র বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সুস্থ মাটি অপরিহার্য; এসএফআইয়ের অর্থে তৈরি মাটি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা কৃষককে মাটির অবস্থা বুঝতে ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। নমুনা খামারে পরিদর্শক পাঠিয়ে এবং প্রাকৃতিক মূলধন মূল্যায়নের তথ্য দিয়ে কর্মসূচির ফল পর্যবেক্ষণ করা হয় বলে জানান তিনি। প্রতিবেদনটি লিখেছেন ফিলিপ কেস।
ছবি: Peter Holmes / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly





মন্তব্য
(০)