জলবায়ু-সহনশীল কৃষির পথ হিসেবে প্রচারিত সংরক্ষণশীল কৃষির সব পদ্ধতি একইভাবে গ্রিনহাউস গ্যাস কমায় না; কিছু পদ্ধতি ধারাবাহিকভাবে নিঃসরণ কমালেও পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনাভেদে কোনোটি উল্টো বাড়াতে পারে। যুক্তরাজ্যের রথামস্টেড রিসার্চের একটি পর্যালোচনার বরাতে এ খবর দিয়েছে অ্যাগ্রিল্যান্ড।
গবেষকেরা বিশ্বের ৪২২টি গবেষণা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, সংরক্ষণশীল কৃষির মূল নীতিগুলো, অর্থাৎ কম বা শূন্য চাষ, মালচিং, ফসলচক্র ও সঠিক মাত্রায় সার ব্যবহার, কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড ও মিথেন নিঃসরণে কী প্রভাব ফেলে।
সবচেয়ে ধারাবাহিক সুফল মিলেছে কম ও শূন্য চাষে। কম চাষে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমার জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে; নাইট্রাস অক্সাইডও কমতে পারে, আর মাটির মিথেন শোষণ বাড়ার কিছু প্রমাণ আছে। মাটি কম নাড়াচাড়া করলে মাটির গঠন রক্ষা পায় এবং মাটিতে জমা কার্বন ধীরে বের হয়।
ফসলের অবশিষ্টাংশ রেখে দেওয়া ও আচ্ছাদন ফসলসহ মালচিং মাটি সুরক্ষা, পানি ধরে রাখা ও মাটির স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও কিছু চাষব্যবস্থায় এতে নিঃসরণ বেড়েছে, কারণ পচনশীল জৈব পদার্থ অণুজীবের তৎপরতা বাড়িয়ে তিনটি গ্যাসই তৈরি করে। জৈব সার, ধীরে-মুক্ত হওয়া সার বা নাইট্রোজেন ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানোর মতো সার ব্যবস্থাপনার ফল ছিল খুবই ভিন্ন ভিন্ন; নাইট্রাস অক্সাইড নিঃসরণের বড় চালক এখনো নাইট্রোজেনের মাত্রা। প্রধান লেখক ড. গ্রেস কাঙ্গারা বলেন, বৃষ্টিপাত ও মাটির ধরনের মতো পরিবেশগত বিষয় নাতিশীতোষ্ণ ও ক্রান্তীয় উভয় অঞ্চলে নিঃসরণ কমানোকে জটিল করে তোলে।
ফসলচক্রে ডালজাতীয় ফসল থাকলে একটানা দানাশস্য চাষের তুলনায় কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কম দেখা গেছে, আর দানাশস্যের পর দানাশস্য চাষে নিঃসরণ বেশি হওয়ার প্রবণতা ছিল। পর্যালোচনায় তথ্যের বড় ঘাটতিও ধরা পড়েছে, বিশেষ করে আফ্রিকায়, যেখানে সংরক্ষণশীল কৃষিতে নিঃসরণ মাপার দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা খুব কম। গবেষকেরা দীর্ঘমেয়াদি মাঠ পরীক্ষা ও মাপজোখের প্রমিত পদ্ধতি চেয়েছেন এবং প্রতিটি পদ্ধতিকে আলাদাভাবে ও একসঙ্গে, স্থানীয় পরিবেশে বিচার করার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতিবেদনটি লিখেছেন রিচার্ড হ্যালেরন।
ছবি: Volker Prasuhn / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Agriland




মন্তব্য
(০)