খরা ও দাবানলে কঠিন একটি গ্রীষ্মের পর যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে কৃষকেরা এ বছর শরতে তরল গোবর-সার (স্লারি) ছিটানোর জন্য বাড়তি সময় এবং ভর্তুকির বড় অংশ আগাম পাবেন। ওয়েলস সরকারের এ ঘোষণার খবর দিয়েছে কৃষি সাপ্তাহিক দ্য স্কটিশ ফার্মার।
টেকসই চাষ কর্মসূচি (এসএফএস) ও মৌলিক অর্থপ্রদান কর্মসূচির (বিপিএস) আগাম অর্থ প্রাক্কলিত দাবির ৭০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮০ শতাংশ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সব ধরনের মাটি ও জমিতে স্লারি ও গোবর ছিটানোর সময়সীমা ২০২৬ সালের ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াতে আইন করবে সরকার।
মন্ত্রীরা জানান, দীর্ঘ শুষ্ক আবহাওয়ায় ঘাস কম জন্মেছে, চারণ ও পশুখাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, ফলে শীতের আগে অনেক খামারে স্লারির মজুত স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। কৃষক ও ন্যাচারাল রিসোর্সেস ওয়েলস জানিয়েছে, খরার কারণে অনেক খামার নিয়মমতো চারণ, সাইলেজ তৈরি ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা করতে পারেনি; তাতে মজুতাগারের ধারণক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
সময় বাড়ানোর সুবিধা কেবল চলতি মৌসুমের জন্য। পানির মান রক্ষায় কতটা ছিটানো যাবে তার সীমা এবং দুইবার ছিটানোর মধ্যে বাধ্যতামূলক বিরতির মতো শর্ত থাকছে। মুরগির বিষ্ঠা এর বাইরে, কারণ তা রাখার বিকল্প ব্যবস্থা আছে। কর্মকর্তাদের যুক্তি, ভরা মজুতাগার বর্ষার শীতে উপচে পড়লে দূষণের ঝুঁকি আরও বড়, তাই বাড়তি সময় দেওয়াই পরিবেশের জন্য বেশি দায়িত্বশীল পথ।
গ্রামীণ সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী লির গ্রাফিড বলেন, কৃষকেরা খরার প্রভাব নিয়ে সরাসরি তাঁকে জানিয়েছেন এবং সরকারের কাছে তিনটি জিনিস চেয়েছেন: নিশ্চয়তা, নমনীয়তা ও সহায়তা। বড় অঙ্কের আগাম অর্থ খরার আর্থিক ধাক্কা সামলাতে থাকা খামারগুলোর নগদ টাকার চাপ কমাবে বলে জানান তিনি। প্রতিবেদনটি লিখেছেন কেলি হেনাহেন।
ছবি: Eric Jones / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: The Scottish Farmer




মন্তব্য
(০)