একসময় বছরে ‘কয়েক লাখ ডলার’ রাসায়নিক সার কিনত নিউজিল্যান্ডের যে ভেড়া ও গরুর খামার, সেটি এখন আর কোনো সার কেনে না। মালিকেরা নিজেরাই মাটির উপকারী অণুজীব তৈরি করে জমিতে ছিটাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ফার্মার্স উইকলি নিউজিল্যান্ড।
পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অ্যামান্ডা ও অ্যাড্রিয়ান কারি ২০১২ সালে ৭৫০ হেক্টরের টিনওয়াল্ড ফার্ম কেনেন; পরিকল্পনা ছিল ব্যবস্থাপক ও পরামর্শক রেখে খামার নিজের মতো চলবে। কিন্তু ২০১৮ সালে মাইকোপ্লাজমা বোভিস রোগের প্রাদুর্ভাবে তাঁদের গরু মেরে ফেলতে হয়। অ্যামান্ডা বলেন, তখন মনে হয়েছিল তাঁরা আসলে জানেনই না কী করছেন। এরপর তাঁরা পরামর্শকদের বিদায় দিয়ে একজন ব্যবস্থাপকের সঙ্গে নিজেরাই খামারের হাল ধরেন এবং প্রতিটি খরচ খুঁটিয়ে দেখেন।
অ্যামান্ডা জানান, মাটি খুঁড়ে দেখেছিলেন তাতে প্রাণ নেই; এর জন্য তিনি বছরের পর বছর প্রচলিত চাষ ও রাসায়নিক সারকে দায়ী করেন। এখন খামারের উপকরণ দিয়েই তিনি প্রাকৃতিক মাটি ও উদ্ভিদ-সার তৈরি করেন। বছরে দুবার ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া ও নেমাটোড—মাটির এই চার প্রধান অণুজীবগোষ্ঠীর বংশবৃদ্ধি করিয়ে চারণভূমিতে ছিটানো হয়।
পশু চরানোর ধরনও বদলেছে: একেক প্যাডকে প্রায় ১০০টি গরু রাখা হয়, আর নির্দিষ্ট সময়সূচির বদলে ঘাসের অবস্থা ও বৃদ্ধি দেখে পশু সরানো হয়। অ্যামান্ডার মতে, মাটির জন্য সবচেয়ে ভালো হলো বিশ্রাম; পশুর খুরের চাপ আর গোবরে ঘাসের বীজ মাটিতে পড়ে চারণভূমি নতুন করে জন্মায়। খামারে কয়েক হাজার গোবরে পোকাও আনা হয়েছে, যা নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় প্রজাতি নয়; এগুলো গোবর মাটির প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার নিচে পুঁতে দেয়।
অ্যামান্ডা জানান, এখন ঘাস আগের চেয়ে ভালো হচ্ছে, আর খামারের গরুর মাংস পরীক্ষায় ওমেগা-৩ বেশি পাওয়া গেছে: ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬-এর অনুপাত প্রায় ১:১.০৫, যেখানে তাঁর ভাষায় ঘাস খাওয়া গরুর মাংসে সাধারণত তা ১:৩ বা ১:৪। ৬০০ গরু, ১,৩০০ ভেড়া ও ২০ হেক্টর আঙুরবাগান নিয়ে খামারটি এখন লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে। সারের খরচ বাঁচিয়ে তাঁরা খামার-পর্যটনের জন্য ১২টি ক্লাইডসডেল ঘোড়া কিনেছেন, খামারে গবেষণাগারও আছে।
অ্যামান্ডা বলেন, পদ্ধতিটি কাজ না করলে তিনি তা মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলেন; তবে কেউ আগ্রহী হলে তিনি বলবেন, তাঁদের পথ কাজ করছে।
ছবি: Jorge Royan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Farmers Weekly NZ




মন্তব্য
(০)