পোষা প্রাণীর খাদ্য ও প্রসাধনীতে মাছের তেলের বিকল্প হিসেবে অণুশৈবাল তৈরির শিল্প-পরিসরের কারখানা চালু করেছে ডেনমার্কের জৈবপ্রযুক্তি স্টার্টআপ অ্যালজিসেল (Algiecel)। বিশ্বের অন্যতম বড় এনজাইম কারখানা, কালুন্ডবর্গে নোভোনেসিসের প্রাঙ্গণে এটি বসানো হয়েছে, জানিয়েছে গ্রিন কুইন।
২০২১ সালে হেনরিক বুশ-লারসেনের প্রতিষ্ঠিত অ্যালজিসেল কৃত্রিম আলোয় চলা ছোট, মডিউলভিত্তিক ফটোবায়োরিঅ্যাক্টরে ধরে রাখা কার্বন ডাই-অক্সাইড দিয়ে অণুশৈবাল চাষ করে। কালুন্ডবর্গে এই গ্যাস আসে প্রাঙ্গণের একটি চালু বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট থেকে, বোতলজাত গ্যাস থেকে নয়; প্রতিষ্ঠানের দাবি, এতে প্রমাণ হলো তাদের প্রক্রিয়া বাস্তব শিল্প-উপকরণেও চলে। পণ্যের মধ্যে আছে পুরো কোষের জৈববস্তু, শৈবাল তেল ও আমিষ অংশ, যা মাছের তেল ও মাছের গুঁড়ার জায়গা নিতে পারে।
নতুন বায়োরিঅ্যাক্টরের মোট আয়তন ৫,৫০০ লিটার, যার ৩,২৪০ লিটারে শৈবাল জন্মায়; পরীক্ষামূলক ব্যবস্থায় ছিল ৭০০ লিটার। তাতে সক্ষমতা বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। একই ধরনের ইউনিট যোগ করে বাড়ানো যায় বলে সম্প্রসারণের পথ সহজ, বলছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৪ সালে ছয় কোটি ক্রোনার (৯০ লাখ ডলার) তহবিল তোলা অ্যালজিসেল আগামী বছর থেকে বছরে ১২ টন অণুশৈবাল জৈববস্তু উৎপাদনের আশা করছে।
প্রধান নির্বাহী সুজানে পালস্টেন বুকার্ট বলেন, 'আমাদের পরীক্ষামূলক রিঅ্যাক্টর ১০ হাজার ঘণ্টার বেশি চলেছে, জীববিজ্ঞান যেমন নকশা করেছিলাম তেমনই কাজ করছে। মাছের তেলের সরবরাহ যখন সত্যিই চাপে, তখন এই কারখানায় আমরা প্রমাণ করব যে নির্ভরযোগ্য বিকল্প দিতে পারি।'
গ্রিন কুইন জানায়, জুনের শুরুতে প্রধান উৎপাদক অঞ্চলে মাছের তেলের সরবরাহ এক বছর আগের চেয়ে প্রায় ৩১ শতাংশ কম ছিল; বিশ্বে ওমেগা-৩-এর বাজার এখন ৩৩০ কোটি ডলারের, ২০৩৩ সালে তা ৫৪০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে।
সূত্র: Green Queen



মন্তব্য
(০)