চীনের ফসফেট সার রপ্তানি ২০২৫ সালের প্রায় ৫৩ লাখ টন থেকে ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত প্রায় শূন্যে নেমেছে বলে দাম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্গাস মিডিয়ার তথ্যে জানা গেছে; ওয়েস্টার্ন প্রডিউসার ও ইউক্রঅ্যাগ্রোকনসাল্টের সূত্রে খবরটি দিয়েছে গ্লোবাল এগ্রিকালচার। এতে আগে থেকেই টানাটানিতে থাকা বিশ্ববাজার আরও সংকুচিত হয়েছে, আর আমদানিনির্ভর দেশের কৃষকের জন্য সার কেনার সামর্থ্য কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায়।
ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি), মনো-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (এমএপি) ও সিঙ্গেল সুপারফসফেটের মতো সার শিকড় গঠনে অপরিহার্য এবং দানাশস্য, তেলবীজ ও উদ্যানফসলে ব্যবহৃত এনপিকে মিশ্রসারে যায়। আর্গাসের বিশ্লেষক লিন ওয়াং বলেন, ফসফরিক অ্যাসিড তৈরির মূল কাঁচামাল সালফারের ঘাটতির কারণে চীনা উৎপাদকেরা এখন শুধু দেশীয় চাহিদা মেটাচ্ছেন। কয়েক বছর ধরে বেইজিং রপ্তানি নীতি দিয়ে দেশের বাজার স্থির রাখছে, সর্বশেষ বিধিনিষেধে ফসফেট সার ও সালফিউরিক অ্যাসিড দুটিই রয়েছে।
আর্গাস কেবল আংশিক পুনরুদ্ধার দেখছে: ২০২৭ সালে চীনের ফসফেট রপ্তানি প্রায় ২০ লাখ টন হতে পারে। পুরোপুরি ফিরতে চীনের সালফার সরবরাহ স্থির হতে হবে, যার কোনো সময়সীমা নেই। সালফারের ঘাটতিতে ব্রাজিলের এমএপি, এসএসপি ও টিএসপি কারখানাতেও উৎপাদন কমেছে। আর্গাসের সামর্থ্য সূচকে ফসফেট এখন প্রধান পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম সাশ্রয়ী, নাইট্রোজেন বা পটাশের চেয়েও।
নাইট্রোজেনের চিত্র ভিন্ন। ২০২৬ সালে চীনের ইউরিয়া রপ্তানি ৬০ থেকে ৭০ লাখ টন হবে বলে পূর্বাভাস, যা বিশ্বে ইউরিয়ার দাম নিয়ন্ত্রণে রাখছে বলে ব্যবসায়ীরা বলছেন, যদিও ফসফেটের দাম বাড়ছে। এই অস্বাভাবিক ফারাক দুই গোলার্ধে আসন্ন বপন মৌসুমের আগে জাতীয় সার ক্রেতা ও বড় সমবায়গুলোর পরিকল্পনা জটিল করছে।
স্বাভাবিক বছরে চীন দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বাজারে কয়েক মিলিয়ন টন ফসফেট পাঠায়। সেই চালান না থাকায় আমদানিকারকেরা মরক্কো, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বেশি নির্ভর করবে, আর পরিবহন ও উপকরণের খরচ উঁচু থাকার মধ্যে একই সারের জন্য প্রতিযোগিতা করবে।
ছবি: Suyash Dwivedi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)