অল্প জমিতে চাষ, একবার চারা লাগিয়ে বহু বছর ফলন আর পানীয় তৈরির বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কারণে দেশে আনারকলি ফলের চাষ দ্রুত বাড়ছে। প্যাশন ফল, ট্যাং ফল বা শরবতি ফল নামে পরিচিত এই লতানো ফসলে প্রান্তিক ও বাণিজ্যিক দুই ধরনের চাষিই আগ্রহী হচ্ছেন।
দক্ষিণ আমেরিকার পার্বত্য অঞ্চল থেকে আসা ফলটি বাংলাদেশে প্রথম পরিচিতি পায় পর্যটনকেন্দ্র ও পাহাড়ি এলাকায়। এখন বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, সিলেট ও পঞ্চগড় ছাড়াও চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও টাঙ্গাইলের সমতল জমিতে সফলভাবে এর আবাদ হচ্ছে। কৃষি তথ্য সার্ভিসের তথ্যমতে, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও উত্তর আর্জেন্টিনার বনাঞ্চল এর আদি নিবাস।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কৃষক মো. সজল কক্সবাজারে প্রতিটি ফল ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখে উৎসাহিত হয়ে নিজের ৩৩ শতক জমিতে বাগান করেন। জমি তৈরি ও চারা রোপণে খরচ হয় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, আর প্রথম বছরেই তিনি তিন থেকে চার লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন। এখন দুই-তিন দিন পরপর গড়ে এক হাজার ফল তোলেন, পাইকারিতে প্রতিটি ২৫ থেকে ৩০ টাকা। ডিসেম্বর থেকে মার্চ ছাড়া বছরের বাকি সময় ফল ধরে।
রংপুর হর্টিকালচার সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, চারা লাগানোর আট থেকে দশ মাস পর ফুল আসে। প্রথম বছরে গাছপ্রতি গড়ে ২০ থেকে ২৫টি ফল ধরে, দ্বিতীয় বা তৃতীয় বছর থেকে তা ২০০ থেকে ২৫০টিতে পৌঁছায়। রোদেলা, উঁচু ও পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত জমিতে ফলন সবচেয়ে ভালো। ফুল ফোটার ৬০ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যে ফল তোলার উপযোগী হয়; খোসা সবুজ থেকে হলদে বা বেগুনি হয়ে সামান্য কুঁচকে গেলে আর তীব্র সুবাস ছড়ালে বুঝতে হবে ফল পেকেছে।
কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে, যত্ন পেলে এই বহুবর্ষজীবী লতা টানা ২৫ থেকে ৩০ বছর ফল দেয়। প্রায় দুই দশক আগে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম থেকে এর বিভিন্ন জাত আনা হয়েছিল। ফলের রস, বীজ ও খোসা, তিনটিই বিভিন্ন শিল্পে কাজে লাগে।
তবে বাজার নিয়ে সতর্ক করছেন কৃষিবিদেরা। সাধারণ ফলের মতো কামড়ে খাওয়া যায় না আর দ্রুত পচে যায় বলে তাজা ফলের বাজার এখনো সীমিত। শুধু তাজা ফলের ওপর ভরসা না করে জুস, পাল্প ও অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত পণ্যের কারখানার সঙ্গে সংযোগ গড়তে পারলে আনারকলি চাষ অনেক বেশি লাভজনক হতে পারে বলে তাঁদের মত।
ছবি: Forest & Kim Starr / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0); প্যাশন ফলের লতা ও ফল
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)