ইউরোপের ফসল প্রজননে জিন সম্পাদনার ব্যবহার এখন কোনো বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির চেয়ে বেশি এগোচ্ছে নিয়মকানুনের পরিবর্তনে, বলেছেন নেদারল্যান্ডসের প্রতিষ্ঠান হাডসন রিভার বায়োটেকনোলজি (Hudson River Biotechnology)-র সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা লোটে ভেস্টারহফ (Lotte Westerhof)। লন্ডনে ওয়ার্ল্ড এগ্রি-টেক ইনোভেশন সামিটে তিনি এগনেভিগেটরের সঙ্গে কথা বলেন।
তাঁর ভাষায়, প্রযুক্তিটি অনেক দিন ধরেই আছে এবং নতুন বৈশিষ্ট্যের চাহিদাও বাড়ছে, "কিন্তু আমার দৃষ্টিতে এখন চাকা ঘোরাচ্ছে পুরোপুরি নিয়মকানুন।" নিয়ন্ত্রক অনিশ্চয়তা দূর হওয়ায় যেসব কোম্পানি এতদিন দ্বিধায় ছিল, তারাও জিন সম্পাদনা কর্মসূচি ও অংশীদারি শুরু করছে বলে মত দেন তিনি।
এই মন্তব্য এসেছে ক্রিসপারভিত্তিক ফসল উন্নয়নে বিশেষায়িত হাডসন রিভার এবং জিন-লক্ষ্য শনাক্তের কম্পিউটারভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম বানানো বায়োগ্রাফিকা (Biographica)-র নতুন অংশীদারির পর। প্রতিষ্ঠান দুটি জানায়, বায়োগ্রাফিকার পূর্বাভাসমূলক অ্যালগরিদম কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যুক্ত জিন বাছাই করবে, আর হাডসন রিভারের জিনোম সম্পাদনা ও একক কোষ থেকে উদ্ভিদ পুনর্জননের সক্ষমতায় সেই লক্ষ্য দ্রুত গাছে সম্পাদনা ও যাচাই করা যাবে।
হাডসন রিভার ভেবেছিল প্রজননকারীরা নির্দিষ্ট সম্পাদনার অনুরোধ নিয়ে আসবেন; বাস্তবে অনেকে জানতে চান, আসলে কী সম্পাদনা করা উচিত। বায়োগ্রাফিকার প্রধান নির্বাহী ডমিনিক হল (Dominic Hall) জানান, চাহিদার শীর্ষে রোগ প্রতিরোধ, তারপর খরা ও তাপের মতো অজৈব চাপ সহনশীলতা। তিনি সতর্ক করেন, গাছের মতো রোগজীবাণুও বিবর্তিত হয়; গবেষণাপত্রে আশাব্যঞ্জক কোনো লক্ষ্য হয়তো মাঠের জীবাণু ইতিমধ্যে অকেজো করে দিয়েছে।
হলের মতে, ওষুধ কোম্পানিগুলো যেমন প্রাথমিক গবেষণা বাইরে করায়, বড় বীজ কোম্পানিগুলোও তেমনি নিজেদের দলের সীমা ছাড়িয়ে বেশি বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করতে বাইরের অংশীদারের দিকে ঝুঁকছে। তাঁর ধারণা, জিন সম্পাদিত ফসলের পরের ধাপে ভোক্তা সরাসরি উপকার পাবেন, যেমন ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ টমেটো, আর তাতে গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন অলিভার মরিসন।
ছবি: Angphotorion (plant tissue culture in a laboratory) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: AgNavigator





মন্তব্য
(০)