অনিয়মিত আবহাওয়া, বাড়তি উপকরণ খরচ আর মাটির মান কমে যাওয়ার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষকদের উচিত মাটির জীবজগৎকে মাটির রসায়নের সমান গুরুত্ব দেওয়া। এ কথা বলেছেন মাটি পরীক্ষাগার নেমল্যাবের (Nemlab) পরামর্শক শিলা স্টোরি (Sheila Storey), কৃষিতে স্নাতকোত্তর। ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকার অক্টাভিয়া আভেসকা স্প্যান্ডিয়েলকে তিনি এই সাক্ষাৎকার দেন।
স্টোরি বলেন, সার কর্মসূচি দরকারি, তবে উপকারী ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া, নেমাটোড ও অন্যান্য অণুজীব মিলে মাটিতে যে খাদ্যজাল গড়ে তোলে, সেটিই পুষ্টি পুনর্চক্রায়ন করে, মাটির গঠন তৈরি করে এবং রোগ ও পোকা থেকে গাছকে রক্ষায় সাহায্য করে। তাঁর ভাষায়, ‘জীবজগতের ভারসাম্য থাকলে উপকারী নেমাটোড গাছের পাওয়া নাইট্রোজেনের ৯ থেকে ৩০ শতাংশ জোগাতে পারে।’ মাইকোরাইজা ছত্রাক মাটি থেকে তোলা ফসফরাস গাছকে দিয়ে বিনিময়ে কার্বন নেয়, আর সেই কার্বন মাটিতে জমা রাখে।
মাটির স্বাস্থ্যের ছয়টি নীতির কথা বলেন তিনি: সারা বছর মাটিতে জীবন্ত শিকড় রাখা, শিকড়ের বৈচিত্র্য, মাটি ঢেকে রাখা, রাসায়নিক, যান্ত্রিক ও জৈবিক বিঘ্ন যতটা সম্ভব কমানো, যেখানে সম্ভব গবাদিপশু যুক্ত করে পুষ্টি ফেরানো ও আচ্ছাদন ফসল কাজে লাগানো, আর প্রতিটি খামার, বাগান বা মাঠের অবস্থা বুঝে ব্যবস্থাপনা। শিকড় শর্করা দিয়ে মাটির অণুজীবকে খাওয়ায়; এক জাতের বদলে কয়েক জাতের আচ্ছাদন ফসল মিশিয়ে লাগালে আরও বেশি রকমের অণুজীব খাবার পায়। স্টোরির কথায়, ‘মাটির ওপরের বৈচিত্র্যই মাটির নিচের বৈচিত্র্য তৈরি করে।’
মালচ, ফসলের অবশিষ্টাংশ বা জীবন্ত আচ্ছাদন মাটির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে আর কার্বন জোগায়। সেই কার্বন থেকে তৈরি হিউমাস ‘স্পঞ্জের মতো কাজ করে’, মাটির পানি ধারণক্ষমতা বাড়ায়; দীর্ঘ খরা, তাপপ্রবাহ ও অনিয়মিত বৃষ্টির সময়ে এটি বড় সুবিধা। উপযুক্ত ব্যাকটেরিয়া থাকলে ডালজাতীয় ফসল মাটিতে নাইট্রোজেন যোগ করে; তিনি বলেন, এটি একা রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা দূর করতে না পারলেও প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন কমাতে পারে। বেশির ভাগ নেমাটোড ক্ষতিকর নয়; উপকারী আর গাছের পরজীবী নেমাটোডের অনুপাত দেখে মাটির স্বাস্থ্য বোঝা যায়।
স্টোরির মতে সবচেয়ে সাধারণ ভুল হলো একটি পণ্য বা একটি চর্চায় মাটি ভালো হয়ে যাবে বলে আশা করা, মিশ্রণের জায়গায় এক জাতের আচ্ছাদন ফসল লাগানো, আর ‘কৌটার অণুজীব’ মাটির স্বাস্থ্য ফিরিয়ে দেবে বলে বিশ্বাস করা; এসব পণ্য মূলত শিকড়ের স্বাস্থ্য ভালো করে। পরীক্ষাগারের পুষ্টি বিশ্লেষণের পাশাপাশি তিনি কয়েকটি সহজ পরীক্ষার কথা বলেন: পানি কত দ্রুত মাটিতে ঢোকে তা দেখা, স্প্রিংটেলের মতো ক্ষুদ্র প্রাণী আছে কি না খোঁজা, হাতে মাটির গঠন অনুভব করা এবং পেনিট্রোমিটার দিয়ে মাটির শক্ত হয়ে যাওয়া মাপা।
তিনি বলেন, যে মাটিতে জৈবিক কর্মকাণ্ড বেশি, সেখানে পানি ভালোভাবে ঢোকে, বেশি ধরে থাকে, আর ভারী বৃষ্টিতে কম গড়িয়ে যায়; ফলে বদলে যাওয়া জলবায়ুতে সেই মাটি বেশি সহনশীল।
ছবি: USDA NRCS South Dakota / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা




মন্তব্য
(০)