আগাছানাশক ছাড়াই আগাছা দমনের নতুন এক রোবট বাজারে এনেছে যুক্তরাজ্যের স্টার্টআপ আর্থ রোভার (Earth Rover)। রোবটটির নাম ক্লজ (CLAWS), পুরো কথায় কনসেনট্রেটেড লাইট অটোনোমাস উইডিং অ্যান্ড স্কাউটিং। এটি সৌরশক্তি ও ব্যাটারিতে চলে এবং কোম্পানির হিসাবে ব্যাটারি না বদলেই টানা ১৬ ঘণ্টা কাজ করতে পারে।
লন্ডনে ওয়ার্ল্ড অ্যাগ্রি-টেক ইনোভেশন সামিটে প্রধান নির্বাহী জেমস মিলার (James Miller) এজিফান্ডনিউজকে এর কাজের ধরন বুঝিয়ে বলেন। রোবট বেডের সারি ধরে চলে, আগাছা শনাক্ত করে, তারপর প্রতিটি আগাছার বাড়ন্ত ডগায় (মেরিস্টেম) এমন মাত্রায় কেন্দ্রীভূত আলো ফেলে যে ডগাটি সেদ্ধ হয়ে আগাছা মরে যায়। সামনে-পেছনের ক্যামেরা একই সময়ে প্রতিটি গাছের তথ্য নেয়: গাছ গোনা, অবস্থান আর এনডিভিআই সূচকে ফসলের স্বাস্থ্য।
মিলার জানান, এটি লেজার নয়। আতশ কাচের মতো আলো এক বিন্দুতে জড়ো হয়ে আবার ছড়িয়ে যায়, তাই নির্দিষ্ট দূরত্বের পর চোখের জন্য নিরাপদ। লেজারে আগাছা দমনের চেয়ে এতে বিদ্যুৎ অনেক কম লাগে বলেই রোবটটি ব্যাটারি ও সোলার প্যানেলে চলতে পারে। কোম্পানির লক্ষ্য হেক্টরপ্রতি সবচেয়ে কম কিলোওয়াট-ঘণ্টা খরচ।
ক্লজ তৈরি হয়েছে সবজি, সালাদ ও বিশেষ ফসলের বেড ও খোলা মাঠের জন্য। এর চাকার মাঝের দূরত্ব ১.৫ থেকে ২ মিটার পর্যন্ত বদলানো যায়, উচ্চতাও গাজরের আইলের মতো বেড অনুযায়ী ঠিক করা যায়। মিলারের দাবি, সদ্য গজানো পেঁয়াজ চিনে ঠিক পাশের আগাছায় মিলিমিটার নিখুঁতভাবে আঘাত করা যায়; বৃষ্টি বা বাতাসেও কাজ চলে, আর আগাছানাশক-প্রতিরোধী আগাছাও মরে।
প্রথম চাহিদা এসেছিল এক জৈব কৃষকের কাছ থেকে, যাঁর হাতে ছিল শুধু শুকনো আবহাওয়ায় যান্ত্রিক নিড়ানি আর হাতে নিড়ানি। এখন বেশি খোঁজ আসছে প্রচলিত চাষিদের কাছ থেকে, যাঁদের আগাছানাশক নিষিদ্ধ হচ্ছে বা আর কাজ করছে না। প্রথম ১০টি পাইলট রোবট বিক্রি হয়েছে, আরও ১৫টি তৈরি হচ্ছে। দাম প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড, আগে কিনলে ছাড়। মিলার বলেন, খামারের নিড়ানি খরচ অনুযায়ী এক থেকে তিন বছরে খরচ উঠে এসেছে।
রোবটটির নকশা ১০০ হেক্টরের সবজি বা সালাদ খামার ধরে, তবে ৫ ও ১৫ হেক্টরের খামারিরাও কিনেছেন। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত আর্থ রোভার শেয়ার বিনিয়োগ আর ইনোভেট ইউকে ও ফরেস্ট্রি কমিশনের অনুদানে চলেছে। আগামী বছর সিরিজ এ তহবিল তুলে সবজির বাইরে বড় মাঠের ফসলেও যেতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
ছবি: Philip Halling / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)