মাটি পোড়ানো ইটের বিকল্প পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে এর ওপর ভ্যাট কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ব্লক প্রস্তুতকারকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়; চিঠিতে সই করেছেন কার্যালয়ের পরিচালক দেওয়ান মওদুদ আহমেদ। এনবিআর সূত্রের বরাতে সমকাল এ খবর দিয়েছে।
বর্তমানে প্রতিটি ব্লকের বিক্রয়মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। বাংলাদেশ কংক্রিট প্রডাক্ট অ্যান্ড ব্লক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিবিপিএমএস) তা ৩ শতাংশে নামানোর দাবি জানিয়েছে। গত ২৭ আগস্ট পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সংগঠনটির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠায়। ইটভাটার মতো মেশিনের ধরন ও উৎপাদনক্ষমতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট বার্ষিক ভ্যাটের প্রস্তাবও দিয়েছেন উৎপাদকেরা; বছরে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ব্লক তৈরি করে এমন কারখানার জন্য বার্ষিক ভ্যাট ৫ লাখ টাকা চেয়েছেন তাঁরা।
গত ১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে দূষণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সভায় পোড়া ইটের ব্যবহার কমিয়ে ব্লকের উৎপাদন বাড়ানো, সরকারি নির্মাণে পর্যায়ক্রমে শতভাগ ব্লক ব্যবহার, শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও মান পরিবীক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়। ৩০ জুলাই মুখ্যসচিবের সভায় ব্লকের ওপর ভ্যাট ও শুল্ক কমানোর তাগিদ দেওয়া হয়।
এনবিআরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনা করে ভ্যাট কতটা কমানো হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিসিবিপিএমএসের সাধারণ সম্পাদক জুলকর শাহীন বলেন, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও ব্লক খাত এখনো এ সুবিধা পায়নি। ২০১৯ সালে সরকারি সব নির্মাণে শতভাগ ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলেও এখনো ইটের ব্যবহারই বেশি।
মাটি পুড়িয়ে ইট তৈরিতে কৃষিজমির উর্বরতা কমে এবং পরিবেশ দূষিত হয়। অন্যদিকে পলি-বালু, সিমেন্ট ও কিছু রাসায়নিক মিশিয়ে তৈরি ব্লক পরিবেশবান্ধব ও ভূমিকম্পসহনীয় নির্মাণসামগ্রী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছবি: Dolon Prova / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)