চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা সদরের বটতলী স্টেশন এলাকার ময়লা-আবর্জনা প্রায় ১৫ দিন ধরে গভীর রাতে চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের জায়গায় ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে বটতলী শহর পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন অভয়ারণ্যের বনপুকুর ও জাঙ্গালিয়া এলাকায় বর্জ্যের স্তূপ দেখা গেছে।
খোলা জায়গায় জমে থাকা পচনশীল বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, ভোগান্তিতে পড়ছেন আশপাশের মানুষ। এভাবে বর্জ্য জমতে থাকলে বনভূমি, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও প্রাকৃতিক পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় পরিবেশসচেতন ব্যক্তিদের মতে, বাজার ও জনবসতির বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অপসারণ না করে বনের পাশে ফেললে তা পরিবেশগত সংকট তৈরি করবে। অভয়ারণ্যের মতো বনাঞ্চল রক্ষা শুধু বন বিভাগের নয়, স্থানীয় প্রশাসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানেরও দায়িত্ব বলে মনে করেন তাঁরা।
বটতলী শহর পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক কাজী নুরুল আলম চৌধুরীর দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৌখিক অনুমতি নিয়েই সেখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। বর্জ্য ফেলতে বাধা দেওয়ায় এক বনকর্মীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য রেঞ্জের কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাধা দেওয়ায় এক বনকর্মীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। লোহাগাড়ার ইউএনও মো. বায়েজীদ বিন আখন্দ মৌখিক অনুমতির দাবি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে বলেন, অভয়ারণ্যে বর্জ্য ফেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
প্রতিবেদনটি দৈনিক আজাদীর লোহাগাড়া প্রতিনিধি মোহাম্মদ মারুফের।
ছবি: Asif Chowdhury Sadi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দৈনিক আজাদী





মন্তব্য
(০)