খুলনার তেরখাদা উপজেলা ও নড়াইলের একাংশজুড়ে বিস্তৃত ভূতিয়ার বিল এখন লাল, গোলাপি ও সাদা পদ্ম-শাপলায় ভরা। ভোর থেকেই বিলপাড়ে দর্শনার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়, ছোট ডিঙি নৌকায় চড়ে হোগলাবন ও কচুরিপানার ফাঁক দিয়ে তাঁরা ফুল দেখতে যান।
স্থানীয়রা জানান, পদ্ম ফোটার মৌসুমে দর্শনার্থী বাড়ে। কয়েক বছর ধরে এলাকার অনেক বেকার যুবক নৌকায় পর্যটকদের বিল ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন, এতে মৌসুমি কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। বিল ঘোরার ছোট নৌকার ভাড়া সাধারণত ২০০ থেকে ৫০০ টাকা। খুলনা শহর থেকে জেলখানা ঘাট পার হয়ে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে তেরখাদা বাজার, সেখান থেকে ইজিবাইকে চরকুশলা গ্রামের পদ্মবিলে যেতে প্রায় দেড় ঘণ্টা লাগে।
তবে সৌন্দর্যের আড়ালে আছে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ। স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৩ সাল থেকে প্রায় ২০ হাজার একর জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রয়েছে। এতে কৃষিকাজ ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অনেক পরিবার শহরমুখী হয়েছে, আর এলাকার অনেকে এখন মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল।
বিলটি কৈ, শিং, মাগুর, শোল, গজার, রয়না, খলিশা ও পুঁটিসহ নানা দেশি মাছের আবাস। শীতে পানি কমলে জাল ও পোলো দিয়ে মাছ ধরা হয়।
দর্শনার্থী তামিম হাসান, প্রিয়া রহমান ও মুজাহিদুল ইসলাম জানান, নৌকায় পদ্মের কাছাকাছি যাওয়ার অভিজ্ঞতা দারুণ, তবে কিছু দর্শনার্থী ফুল ছিঁড়ে প্রকৃতির ক্ষতি করছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিলের জলজ প্রাণবৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে পরিকল্পিত পর্যটন অবকাঠামো গড়লে নিরাপদ নৌযাত্রা ও পরিচ্ছন্নতার মধ্য দিয়ে এটি দক্ষিণাঞ্চলের আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হতে পারে।
প্রতিবেদনটি রাইজিংবিডির, প্রকাশ করেছে এগ্রিকেয়ার২৪।
ছবি: Koushik Roy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)