বসন্ত ও গ্রীষ্মে গোলাপগাছের যত্নে মন দিলেও শীতের আগে অনেকেই পরিচর্যা ঢিলে করেন। অথচ এ সময় সঠিক যত্ন না নিলে ঠান্ডায় ডালপালা ও শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বিশেষ করে হাইব্রিড টি, গ্র্যান্ডিফ্লোরা ও ফ্লোরিবান্ডা জাতের গোলাপের। বাগান পরিচর্যার ওয়েবসাইট দ্য স্প্রুসের পরামর্শ ধরে জাগো নিউজ জানিয়েছে, শরতে কী করতে হবে আর কী এড়াতে হবে।
প্রথম কাজ গাছের চারপাশ পরিষ্কার রাখা। কিছু রোগজীবাণু শীতেও মাটিতে বেঁচে থাকে, তাই ঝরা পাতা ও ডালপালা সরিয়ে ফেলুন; রোগের লক্ষণ থাকলে আলাদা করে ফেলে দিন। গাছ পুরোপুরি সুপ্ত হলে, সাধারণত প্রথম তীব্র শীতের পর, গোড়ায় মালচ দিন: দেশি ও ঝোপজাতীয় গোলাপে ৪ থেকে ৮ ইঞ্চি পুরু স্তর যথেষ্ট, আর হাইব্রিড টি, গ্র্যান্ডিফ্লোরা ও ফ্লোরিবান্ডায় জোড়কলমের জায়গাটি পুরো ঢেকে দিতে হবে।
গাছ সুপ্তির দিকে গেলে পানি দেওয়া ধীরে ধীরে কমান, তবে বৃষ্টি কম হলে পরিমিত পানি দিন; মাটি বেশি শুকিয়ে গেলে ঠান্ডায় ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।
যা করবেন না: শরতে শুকিয়ে যাওয়া ফুল ছাঁটা বন্ধ রাখুন, কারণ তা নতুন কুঁড়িকে উৎসাহিত করে, অথচ এ সময় লক্ষ্য গাছের বৃদ্ধি ধীর করা। প্রথম তীব্র শীতের সম্ভাব্য সময়ের ছয় থেকে আট সপ্তাহ আগে সার দেওয়া বন্ধ করুন; মৌসুমের শেষে সার দিলে নরম নতুন ডাল গজায়, যা ঠান্ডায় সহজে নষ্ট হয়। শীতপ্রধান এলাকায় শরতে বেশি ছাঁটাইও নয়, এতে ডালে ক্ষত হয়ে ঠান্ডায় ক্ষতি বাড়ে; শীত মৃদু এমন এলাকায় এ নিয়ে তেমন চিন্তা নেই।
শীতের প্রস্তুতি নির্ভর করে এলাকার আবহাওয়া ও জাতের ওপর। বাতাসে ডাল বেশি দুললে শিকড় আলগা হয়ে যেতে পারে, তাই গাছ সুপ্ত হলে ডাল মাটি থেকে ২ থেকে ৩ ফুট উচ্চতায় ছেঁটে দেওয়া যায়। গোড়া ও মূল কাণ্ডের সংযোগস্থল ঘিরে প্রায় ১২ ইঞ্চি উঁচু মাটির ঢিবি করে ওপরে মালচ বা ঝরা পাতা দেওয়া যায়, কিংবা বাতাস চলাচল করে এমন কাপড় বা চটে গাছ মুড়ে রাখা যায়।
খুব ঠান্ডা অঞ্চলের জন্য দ্য স্প্রুস 'মিনেসোটা টিপ' পদ্ধতির কথা বলেছে: ডালগুলো বেঁধে সাবধানে বাঁকিয়ে মাটির অগভীর নালায় শুইয়ে মাটি চাপা দেওয়া, মাটি জমে গেলে ওপরে খড়; বসন্তে উষ্ণ হলে ডাল তুলে আনতে হয়।
ছবি: Maria Kozmina / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪




মন্তব্য
(০)