দিনে হালকা গরম, রাতে ঠান্ডা আর ভোরের কুয়াশায় শীতের আভাস মিলতেই চুয়াডাঙ্গার গ্রামে খেজুরগাছ প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছে। ধারালো দা হাতে গাছে উঠে শুকনো অংশ ছেঁটে রস সংগ্রহের উপযোগী করছেন গাছিরা। কয়েক সপ্তাহ পর গাছে বাঁধা মাটির হাঁড়িতে জমবে রস, তা জ্বাল দিয়ে তৈরি হবে নলেন গুড় ও পাটালি। জেলায় এ পেশায় ১৪-১৫ হাজার গাছি জড়িত।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার চার উপজেলায় মাঠ ও রাস্তার দুই ধারে ২ লাখ ৭২ হাজার খেজুরগাছ রয়েছে, সবচেয়ে বেশি জীবননগর, দামুড়হুদা, দর্শনা ও আলমডাঙ্গা এলাকায়। এরই মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ গাছ কাটা শেষ। প্রতিটি গাছ থেকে ১০-১১ কেজি গুড় পাওয়া যায়।
এ মৌসুমে জেলায় ২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন খেজুরের গুড় উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। গত মৌসুমে লক্ষ্য ছিল ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন, আর রস ও গুড় বিক্রি করে আয় হয়েছিল ৭৫ কোটি টাকা।
একজন শ্রমিক দিনে ২৫ থেকে ৩০টি গাছ কাটছেন, মজুরি দৈনিক ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা। দর্শনা এলাকার গাছিরা জানান, শ্রমিক সংকট এড়াতে আগেভাগেই কাজ শুরু করেছেন। গাছ ঝোড়ার পর প্রায় ১৫ দিনের মাথায় নলি পোঁতা হবে, তার আগে আরেকবার গাছ চাঁছতে হবে। এর এক সপ্তাহ পর হাঁড়ি পাতা হবে; কার্তিকের শেষ সপ্তাহ থেকে হাঁড়ি পাতার পরিকল্পনা তাঁদের। একটি গাছ থেকে তিন দিন রস নেওয়ার পর চার-পাঁচ দিন বিশ্রাম দিতে হয়।
সারা রাত ফোঁটা ফোঁটা জমা রস সকালে চুলায় ঘণ্টাখানেক জ্বাল দিলে তৈরি হয় ঝোলা গুড়, দানা গুড় ও পাটালি।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, মান ভালো হওয়ায় চুয়াডাঙ্গার গুড়ের চাহিদা সারা দেশে, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলায় যায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং পর্যাপ্ত শীত পড়লে এবারও লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে তিনি আশা করছেন; শীত যত বাড়বে, রসের প্রবাহও তত বাড়বে।
প্রতিবেদনটি বাসসের, প্রকাশ করেছে বাংলাভিশন।
ছবি: NIslamPhoto / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাংলাভিশন





মন্তব্য
(০)