ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর কার্যকর হয়েছে। এতে নিউজিল্যান্ডে ভারতের সব পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে, আর বাজার সুবিধার সঙ্গে জোড়া হয়েছে আপেল, কিউই ও মধু নিয়ে কৃষি সহযোগিতা। চুক্তি কার্যকরের ঘোষণা দেন ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ও নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী টড ম্যাকক্লে (Todd McClay)।
কৃষি অধ্যায়ের কেন্দ্রে আছে কৃষি উৎপাদনশীলতা অংশীদারত্ব, যা শুল্ক কমানোর বাইরে গিয়ে ভারতীয় চাষিদের প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও ভালো চর্চা পৌঁছে দেবে। আপেল, কিউই ও মধুর জন্য আলাদা কর্মপরিকল্পনা আছে, সঙ্গে উদ্যানফসল, বনায়ন, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্যে সহযোগিতা। উৎকর্ষকেন্দ্র (সেন্টার অব এক্সিলেন্স) গড়তে কারিগরি সহায়তা দেবে নিউজিল্যান্ড।
প্রথম ধাপে কিউইর জন্য নাগাল্যান্ডের ফুৎসেরো ও উত্তরাখণ্ডের মাগরায় জায়গা ঠিক হয়েছে। আপেলের দুটি কেন্দ্র প্রস্তাব করা হয়েছে হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে, আর মধুর কেন্দ্র উত্তর প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে। লক্ষ্য ভালো বাগান ব্যবস্থাপনা, ফসল-পরবর্তী ক্ষতি কমানো ও উৎপাদন বাড়ানো; তবে রুরাল ভয়েস মনে করিয়ে দিয়েছে, কৃষকের আয়ে প্রভাব নির্ভর করবে বাস্তবায়ন আর কতজন কৃষক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ পান তার ওপর।
নিউজিল্যান্ডের আপেল, কিউই ও মানুকা মধু আমদানির শুল্ক-হার কোটা এসব কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতির সঙ্গে যুক্ত, তদারক করবে যৌথ কৃষি উৎপাদনশীলতা পরিষদ। সরকারের ভাষায়, এতে বাজার সুবিধা কৃষককল্যাণের সঙ্গে বাঁধা থাকল।
দেশি উৎপাদকদের সুরক্ষায় দুগ্ধপণ্য, চিনি, ভোজ্যতেল ও প্রধান কৃষিপণ্যে কোনো শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়নি, যাতে দুগ্ধখামারি, জেলে ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী আমদানির চাপে না পড়েন। চুক্তিতে উৎস নিয়ম ও দ্বিপক্ষীয় সুরক্ষাব্যবস্থাও আছে। নিউজিল্যান্ড ভারতের পণ্যে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক তুলে দিয়েছে।
প্রতিবেদন বলছে, রপ্তানির সুযোগ কাজে লাগাতে ভারতের ফলচাষিদের ভালো সংরক্ষণ, মোড়ক ও সরবরাহব্যবস্থাও লাগবে।
ছবি: వేదపండిత (মানালির কাছে নাগ্গরের আপেলবাগান) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)