নিয়ম মেনে আর পরিমিত পরিমাণে চিবালে চুইংগাম দাঁতের সুরক্ষায় কাজে আসতে পারে, বিশেষ করে যাঁদের মুখ শুকিয়ে থাকে। কিন্তু অতিরিক্ত চিবানোর অভ্যাস চোয়ালের হাড় ও পেশিতে জটিলতা তৈরি করতে পারে। প্রথম আলোকে এমনটাই জানিয়েছেন কলাবাগানের রাজ ডেন্টাল সেন্টারের দন্তবিশেষজ্ঞ ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ।
তাঁর ব্যাখ্যায়, চুইংগাম চিবালে মুখে লালা তৈরি হয় প্রায় ১০ গুণ বেশি। এই লালা মুখের ব্যাকটেরিয়ার তৈরি ক্ষতিকর অ্যাসিড নিষ্ক্রিয় করে দাঁতের এনামেল রক্ষা করে, আর লালার ক্যালসিয়াম ও ফসফেট দাঁতের ক্ষয় ঠেকাতে সাহায্য করে। লালা খাবারকে পিচ্ছিল করে হজমে সহায়তা করে এবং স্বাদও বাড়ায়। চিবানোর সময় মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ ও অক্সিজেনের মাত্রা বাড়ে, স্ট্রেস হরমোন কমে এবং মুখের দুর্গন্ধও কিছুটা কমে।
উল্টো দিকও আছে। গামে চিনি থাকলে তা দাঁতে ক্ষয় বা ডেন্টাল ক্যারিজ ঘটায়। বেশি সময় ধরে চিবালে চোয়ালের সন্ধি (টেমপোরোম্যান্ডিবুলার জয়েন্ট) ও মাংসপেশিতে বাড়তি চাপ পড়ে; এতে চোয়ালে ক্লিকের মতো শব্দ, মাথাব্যথা এবং কান বা চোয়ালে ব্যথা হতে পারে। সরবিটলের মতো কৃত্রিম চিনির কারণে অনেকের ডায়রিয়াও হতে পারে।
কারা চুইংগাম এড়িয়ে চলবেন, সে তালিকাও দিয়েছেন এই চিকিৎসক: সম্প্রতি দাঁতে ফিলিং, ইমপ্ল্যান্ট বা ব্রেস লাগানো হয়েছে এমন ব্যক্তি, চোয়ালের সমস্যা বা টিএমডি আছে যাঁদের, রাতে দাঁত কিড়মিড় করার অভ্যাস যাঁদের এবং মাইগ্রেনে ভোগেন যাঁরা। ছোট শিশু ও গিলতে সমস্যা আছে এমন মানুষের গলায় গাম আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
চিবাতে চাইলে চিনিমুক্ত, জাইলিটলসমৃদ্ধ গাম বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. রাজ। চোয়ালের পেশির ওপর চাপ এড়াতে একবারে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের বেশি চিবানো উচিত নয়। ভারী খাবারের পর চিবানোই সবচেয়ে ভালো, কারণ তখন এটি দাঁত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
ছবি: Lusheeta / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)