ইলিশের উৎপাদন কেন কমছে এবং কীভাবে তা বাড়ানো যায়, তা খুঁজে বের করতে বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কাজ করছে সরকার। মঙ্গলবার চাঁদপুরে এ কথা জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
চাঁদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম দাসাদী বড় খান বাড়ির মাঠে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান উপলক্ষে জেলেদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ ও সচেতনতা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, নদীর নাব্যতা সংকট, দূষণ ও ডুবোচরসহ নানা কারণে ইলিশের সরবরাহ কমেছে। শুধু সরকারি উদ্যোগে উৎপাদন বাড়বে না; মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় জেলেদেরও সচেতন হতে হবে।
নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা যাতে খাদ্যসংকটে না পড়েন, সে জন্য সরকার খাদ্যসহায়তা দিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তবে সহায়তার পাশাপাশি বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করতে হবে। এ জন্য তিনি খাঁচায় ভাসমান মাছ চাষের মতো আধুনিক পদ্ধতি চালুর ওপর জোর দেন, যাতে নিষেধাজ্ঞার মাসেও জেলেদের আয় থাকে।
মন্ত্রী বলেন, কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জীবিকার সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার গভীর সম্পর্ক আছে, তাই সরকার এসব খাতে গুরুত্ব দিচ্ছে। ইলিশ উৎপাদন ও নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে চাঁদপুরের ভূমিকা বড়, এ সম্পদ রক্ষা করা গেলে দেশের অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, মা ইলিশ রক্ষা শুধু মৎস্য অধিদপ্তর বা প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; জেলে, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্থানীয় মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি ভিজিএফের খাদ্যসহায়তা প্রকৃত জেলেদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকও বক্তব্য দেন। প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা চলছে, এ সময় নদীতে ইলিশ ধরা, পরিবহন ও বিক্রি বন্ধ।
প্রতিবেদনটি দেশ রূপান্তরের চাঁদপুর প্রতিনিধির।
ছবি: চাঁদপুরের মাছবাজারে ইলিশ (ফাইল ছবি), Nahid Sultan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর




মন্তব্য
(০)