কানাডায় ডুরাম গম, অন্যান্য গম ও মসুর ডালের মান বা গ্রেড নির্ধারণের নতুন নিয়ম ২০২৬ সালের ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। লক্ষ্য হলো, যে ত্রুটি ব্যবহারের মানে তেমন প্রভাব ফেলে না, তার জন্য কৃষকের ফসলের গ্রেড অকারণে না কমানো, আবার রপ্তানি বাজারে দেশের সুনামও রক্ষা করা।
গত মৌসুমের ডুরাম ফসলে সমস্যার পর গত নভেম্বরে একটি বাণিজ্য নির্দেশনা জারি হয়েছিল। কানাডিয়ান গ্রেইন কমিশনের গবেষণাগার দেখেছে, কালচে হয়ে যাওয়া ডুরাম দানা সুজির মানের যতটা ক্ষতি করে বলে ধরা হতো, আসলে তার চেয়ে অনেক কম করে। ওয়েস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ডস কমিটির সদস্য গ্লেন টেইট (Glenn Tait) বলেন, পাস্তায় কালো দাগ দেখা দিতে দানাকে যে কত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়, তা দেখে তাঁরা অবাক হয়েছেন।
এখন থেকে কানাডা ওয়েস্টার্ন অ্যাম্বার ডুরামের কালচে দানা ধরা হবে স্মাজ হিসেবে, যার সহনসীমা তুলনামূলক শিথিল, আর বেশি কালচে দানা ধরা হবে পেনিট্রেটেড স্মাজ হিসেবে। এক নম্বর গ্রেডে পেনিট্রেটেড স্মাজের সহনসীমা ০.০৩ থেকে বেড়ে ০.১ শতাংশ, দুই নম্বরে ০.২৫ থেকে ০.৩ শতাংশ এবং তিন নম্বরে ০.৫ থেকে ০.৮ শতাংশ হয়েছে। কমিশনের জাতীয় পরিদর্শন মান কর্মসূচির ব্যবস্থাপক ক্রিস ওনিটোয়ি (Kris Wonitowy) জানান, আগে মাত্র ৪০ শতাংশ ফসল ওপরের দুই গ্রেডে যেত, যেখানে সাধারণত যায় প্রায় ৫০ শতাংশ; অর্থাৎ প্রায় ১০ শতাংশ ফসলের গ্রেড অকারণে কমেছিল।
মসুরের ক্ষেত্রে 'বিপরীত শ্রেণি' মাপকাঠির জায়গায় এসেছে 'বিপরীত রং', যাতে দানার খোসা ও ভেতরের অংশ দুটোরই রং দেখা হবে। কালো বা বাদামি খোসার নতুন লাল মসুর জাত, যেমন সিডিসি অনিক্স, বাজারে আসায় এ পরিবর্তন। কানাডা উৎপাদিত ডালের প্রায় ৮৫ শতাংশ রপ্তানি করে; ক্রেতাদের আশঙ্কা, প্রক্রিয়াজাতের পর কালো খোসার টুকরা পণ্যে দাগ ফেলবে। কালো ও লাল খোসার লাল মসুর আলাদা রাখলে বেশি গ্রেড মিলবে।
সাসকাচুয়ান পালস গ্রোয়ার্সের বোর্ড চেয়ার স্টুয়ার্ট লরেন্স (Stuart Lawrence) পরিবর্তনগুলোকে 'বড় কিন্তু সূক্ষ্ম' বলে কৃষকের জন্য ভালো বলেছেন। গ্রেড কমা এড়াতে এক ফসল থেকে আরেক ফসলে যাওয়ার আগে যন্ত্রপাতি ভালোভাবে পরিষ্কার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন জ্যানেল রুডলফ।
ছবি: Sten Porse / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Manitoba Co-operator





মন্তব্য
(০)