বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যে একের পর এক বাণিজ্য-প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে ভারত। ২৪ সেপ্টেম্বর ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশি পাটপণ্যে টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে। চার দিন পর ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের বাণিজ্য প্রতিকারবিষয়ক মহাপরিচালক (ডিজিটিআর) একই পণ্যে পাঁচ বছরের জন্য কাউন্টারভেইলিং ডিউটি (সিভিডি) আরোপের সুপারিশ করেন, পরদিন পাটপণ্যের মোড়কে ব্যবহৃত পিইটি ফিল্মে সর্বোচ্চ ২১৮ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কের সুপারিশ আসে। আমার দেশ এ খবর দিয়েছে।
ব্যবসায়ীদের হিসাবে অ্যান্টি-ডাম্পিং ও সিভিডি দুটিই সর্বোচ্চ হারে কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট পাটপণ্যে টনপ্রতি অতিরিক্ত শুল্ক দাঁড়াবে ৫৮৫ ডলার; তাতে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পাটের সুতা, হেসিয়ান ও বস্তার দাম বেড়ে প্রতিযোগিতা কমতে পারে। ডিজিটিআরের সুপারিশে তদন্তে সহযোগিতা করা ২৪টি পাটকলের জন্য আলাদা হার: সাগর জুট স্পিনিং মিলস ও ওরিয়েন্টাল জুট মিলসের জন্য টনে ১০১.৫৪ ডলার, নমুনার ছয় মিলের জন্য ১০১.৫৪ থেকে ১৩২.৩৬ ডলার, বাকি ১৮ মিলের জন্য ১১৬.৪৮ ডলার এবং সহযোগিতা না করা রপ্তানিকারকদের জন্য ১৪০.০৪ ডলার।
তদন্তের আওতায় পাটের সুতা ও টুইন, বস্তা ও কাপড়, হেসিয়ান কাপড় ও ব্যাগ এবং অন্তত ৫০ শতাংশ পাট থাকা বহুমুখী পণ্য। ভারতীয় পাটকল সংগঠন আইজেএমএ ও এপি মেস্তা টোয়াইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনে শুরু হওয়া তদন্তে ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের মার্চের তথ্য দেখা হয়েছে। বাংলাদেশ একই পণ্যে অ্যান্টি-ডাম্পিংয়ের পর সিভিডিকে ‘দ্বৈত প্রতিকার’ হিসেবে দেখছে; বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার চুক্তি ও ভারতের কাস্টমস ট্যারিফ আইনের ৯বি ধারা তুলে ধরে ডিজিটিআরের কাছে লিখিত আপত্তি দিয়ে তদন্ত বন্ধের অনুরোধ করেছে।
বাজারটি বড়: রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানির ২৪.৩ শতাংশ যায় ভারতে, এরপর তুরস্কে ২১.৪ ও চীনে সাড়ে ১৭ শতাংশ। মোট পাট রপ্তানির প্রায় ৬২ শতাংশ আসে পাটের সুতা ও টুইন থেকে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৮.০২ শতাংশ বেড়েছিল। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে পাট খাতের রপ্তানি ৩৭.০৯ শতাংশ বেড়ে ১৬ কোটি ২৫ লাখ ডলার হয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালে প্রথম অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক, ২০২২ সালে তার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ২০২৫ সালে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা প্রত্যাহার ও স্থলবন্দরে পাটপণ্য আমদানিতে বিধিনিষেধ দিয়েছিল ভারত।
বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাপস প্রামাণিক বলেন, একটি শুল্ক কার্যকর থাকার পর একই পণ্যে আবার সিভিডি আরোপ করা যায় না; সরকারের উচিত বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তোলা। চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হকের মতে, সিভিডি এখনো সুপারিশের পর্যায়ে, তাই আলোচনায় তা অনুকূলে আনার সুযোগ আছে। বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশনের ব্যবস্থাপক (বিপণন) জাকির হোসেন খান ভারতের বাইরে অন্য বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর পরামর্শ দেন। বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান জানান, দিল্লিতে দুই দেশের পরবর্তী বৈঠকে বিষয়টি তোলা হবে।
ছবি: ময়মনসিংহে পাটের আঁশ। ছবি: Rupon Das / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: আমার দেশ





মন্তব্য
(০)