দুগ্ধ খামারের বাছুরের জীবনের প্রথম দুই মাসে তাপ পীড়ন তার স্বাস্থ্য, বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতের দুধ উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে। সাধারণ ছায়া আর বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাতেই তা অনেকটা ঠেকানো যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপের ডারবানভিলের কাছে ডিএমসি হলার্ড সম্মেলনে এ কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের ড. হিমেনা লাপোর্তা (Jimena Laporta)।
দুধ দেওয়া গাভির চেয়ে বাছুর গরম বেশি সইতে পারে এবং উৎপাদন কমার মতো কোনো লক্ষণও দেখায় না, তাই সমস্যাটি সহজে চোখ এড়িয়ে যায়। কিন্তু গরম দিনে শরীরে তাপ জমতে থাকে: সকাল ৭টায় স্বস্তিতে থাকা বাছুর দুপুরের পর দ্রুত শ্বাস নিতে পারে, আর সন্ধ্যা ৭টাতেও তার শরীরে সেই তাপ থেকে যায়। তীব্র অবস্থায় বাছুর মিনিটে প্রায় ১০০ বার শ্বাস নেয়।
লাপোর্তা ব্যাখ্যা করেন, প্রথম দুই মাস গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ সময় ওলানের দুধ তৈরির টিস্যু প্রায় ২৫ গুণ বাড়ে, ডিম্বাশয়, অন্ত্র ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা বাড়ে প্রায় ছয় গুণ। তাঁর কথায়, সবার আগে দরকার ছায়া। তবে ঘর বা খোঁয়াড়ে গরম বাতাস আটকে থাকলে শুধু ছায়ায় বাছুর ঠান্ডা হয় না। তাই এরপর দরকার ফ্যানে বাতাস চলাচল, আর তাতেও না হলে সাবধানে নিয়ন্ত্রিত পানির মিহি ছিটা।
তাঁর দল কয়েকটি পদ্ধতি পরীক্ষা করেছে। ফ্লোরিডায় দলবদ্ধভাবে রাখা বাছুরের ওপর ৪৮ ইঞ্চির সাধারণ ফ্যানে সেকেন্ডে প্রায় ১.৮ মিটার বেগে বাতাস দেওয়ায় শ্বাসের হার ও শরীরের তাপমাত্রা কমেছে। বাছুরগুলো বেশি দুধ খেয়েছে, বেশি দানাদার খাবার খেয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিকসহ চিকিৎসা কম লেগেছে, আর পরে পালের গাভি হিসেবে বেশি দুধ দিয়েছে। মধ্য-পশ্চিম যুক্তরাষ্ট্রে বাছুরের ছোট ঘরে প্রথম চার সপ্তাহ সৌরচালিত ছোট ফ্যান চালানোয় তাপমাত্রা, অ্যামোনিয়া ও জীবাণু কমেছে এবং সেই বাছুরদের বেশি অংশ প্রথম দুগ্ধকাল পর্যন্ত পালে টিকে ছিল।
জর্জিয়ায় একটি পাইপের ভেতর দিয়ে ফ্যানে বাতাস পাঠিয়ে প্রতিটি ঘরের মুখে ছিদ্র ও পানির মিহি ছিটার ব্যবস্থা করায় নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া কমেছে, বাছুর দ্রুত বেড়েছে। লাপোর্তা বলেন, তিনি বকনা হলে নিশ্চিতভাবেই ফ্যানওয়ালা ঘর বেছে নিতেন। প্রতিবেদনটি লিখেছেন গ্লেনেইস ক্রিল।
ছবি: Dave Young / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Farmers Weekly South Africa





মন্তব্য
(০)