জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সহায়তায় আলজেরিয়া ও মেক্সিকোতে ১৮ কোটি ৪৮ লাখ ডলারের দুটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ)। দক্ষিণ কোরিয়ার সংদোতে জিসিএফ বোর্ডের ৪৬তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। লক্ষ্য ক্ষয়ে যাওয়া জমি পুনরুদ্ধার, বন রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মুখে গ্রামীণ জীবিকা শক্ত করা।
আলজেরিয়ায় এটি জিসিএফের অর্থায়নে দেশটির প্রথম প্রকল্প। ১৯৭১ সালে মরুকরণ ঠেকাতে সাহারা-সংলগ্ন স্টেপ অঞ্চলে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ যে সবুজ বেষ্টনী "গ্রিন ড্যাম" শুরু হয়েছিল, প্রকল্পটি তার ওপর ভিত্তি করে। সাত বছরে ছয় প্রদেশের ৪,৫৪,১৩৮ হেক্টর এলাকা এর আওতায় আসবে। ১০ লাখের বেশি মানুষ উপকৃত হবেন, সরাসরি সহায়তা পাবেন ১,৪২,০০০-এর বেশি কৃষক, পশুপালক ও যাযাবর পশুচারী, যাঁদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি নারী। ৫৯,০০০ হেক্টরের বেশি ক্ষয়িষ্ণু বন, চারণভূমি, বালিয়াড়ি ও কৃষিজমি পুনরুদ্ধার করা হবে।
পরিকল্পনায় আছে হিমায়ন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য ১৯০টি সৌরশক্তি কিট এবং ২৪০টি হাইড্রোপনিক পশুখাদ্য ইউনিট, যা ২৫,০০০-এর বেশি গবাদিপশুকে সারা বছর খাবার জোগাবে। ফণীমনসা জাতীয় ক্যাকটাস ফল, জলপাই, রোজমেরি, পশম, এসপার্টো ঘাস ও পুদিনার মূল্য শৃঙ্খলেও সহায়তা দেওয়া হবে। জিসিএফের অনুদান ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার, সরকার দিচ্ছে ৫ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। জিসিএফের হিসাবে মোট বিনিয়োগের ৫৭ শতাংশই সরকারের।
মেক্সিকোতে ১ কোটি ১৮ লাখ মানুষের জীবিকা বনের ওপর নির্ভরশীল, আর গবাদিপশুর চারণভূমির জন্য বন কেটে ফেলা সেখানে বন উজাড়ের বড় কারণ। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে দেশটি রেড প্লাস (REDD+) কর্মসূচিতে ১,২৯,১৫,৬৭১ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য নিঃসরণ কমিয়েছে। এর স্বীকৃতি হিসেবে জিসিএফ ৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের ফলাফলভিত্তিক অর্থ অনুমোদন করেছে। এ অর্থে খামারিরা ক্ষয়ে যাওয়া চারণভূমি পুনরুদ্ধার করবেন এবং সিলভোপাস্টোরাল পদ্ধতি নেবেন, যেখানে চারণভূমি, পশুখাদ্যের গাছ বা গুল্ম ও গবাদিপশু একসঙ্গে পালন করা হয়।
মেক্সিকোর জাতীয় বন কমিশনের (কোনাফোর) সঙ্গে ছয় বছরের এই প্রকল্পে ১,২০০টি কৃষক মাঠ স্কুল হবে, পরিবেশসেবার বিনিময়ে অর্থ দিয়ে ২,০৫,০০০ হেক্টর বন সংরক্ষণে সহায়তা দেওয়া হবে এবং নারী নেতৃত্বাধীন ১২০টি উদ্যোগে অর্থায়ন হবে। জিসিএফের নতুন ফলাফলভিত্তিক অর্থায়ন নীতির আওতায় এটিই প্রথম অনুমোদিত প্রকল্প।
কোনাফোরের মহাপরিচালক সের্খিও গ্রাফ (Sergio Graf) বলেন, চারণ ও পশুখাদ্যের জোগান দিয়ে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় শুষ্ক বন গবাদিপশু উৎপাদনে নির্ধারক ভূমিকা রাখে। এফএও জানিয়েছে, জিসিএফের সঙ্গে তাদের প্রকল্পের মোট আকার এখন প্রায় ২২০ কোটি ডলার, যা ১০০টির বেশি দেশের সাড়ে ছয় কোটির বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে।
ছবি: CSIRO / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: এফএও নিউজরুম





মন্তব্য
(০)