ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্য ২০২৬ সালের খরিফ মৌসুমে তাদের ৬২১টি মণ্ডলের মধ্যে ৩৬৫টি, অর্থাৎ প্রায় ৫৮.৮ শতাংশকে খরাকবলিত ঘোষণা করেছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে অপর্যাপ্ত ও অসম বৃষ্টি, দীর্ঘ শুষ্ক সময় এবং মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়া। এর মধ্যে ১১১টি তীব্র এবং ২৫৪টি মাঝারি খরাকবলিত। ৩১ জেলার এই প্রজ্ঞাপনের বাইরে আছে শুধু হায়দরাবাদ ও পেদ্দাপল্লি।
রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এই আদেশ এসেছে ২০১৬ সালের জাতীয় খরা ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন এবং এল নিনোর প্রভাব খতিয়ে দেখতে গঠিত মন্ত্রিসভা উপকমিটির সুপারিশের পর। ১ জুন থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর রাজ্যে স্বাভাবিক ৭৪০.৬ মিলিমিটারের বিপরীতে বৃষ্টি হয়েছে ৬১৫.৫ মিলিমিটার, ঘাটতি ১৭ শতাংশ। সরকার এর জন্য দায়ী করেছে শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো, বঙ্গোপসাগরে দুর্বল লঘুচাপ এবং ফসলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দীর্ঘ শুষ্কতাকে।
খরিফ ফসলের আবাদ ১৩৯.২৮ লাখ একর থেকে কমে ১২৬.০৬ লাখ একরে নেমেছে, আর ধানের আবাদ ১৮ শতাংশ কমে ৬৯.১৯ লাখ থেকে ৫৭ লাখ একরে দাঁড়িয়েছে। বড় ও মাঝারি জলাধারে কার্যকর মজুত ৫৮৫ টিএমসি ধারণক্ষমতার বিপরীতে ১৭৯.৬৩ টিএমসি। এতে সেচ, খাবার পানি, গবাদিপশু ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের পানি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। নালগোন্ডা ও সাঙ্গারেড্ডিতে খরাকবলিত মণ্ডল সবচেয়ে বেশি, ২৮টি করে।
জেলা প্রশাসনকে সরাসরি সুবিধা হস্তান্তরের (ডিবিটি) মাধ্যমে ফসলহানির উপকরণ সহায়তা, বাড়তি খাবার পানি, পশুখাদ্য ও প্রয়োজনে গবাদিপশুর শিবির এবং ভিবি-জি রাম জি কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে কাজের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসকেরা ব্যাংকারদের সঙ্গে মিলে কৃষিঋণ পুনর্গঠন করবেন এবং জোর করে ঋণ আদায় ঠেকাবেন। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা তহবিল থেকে কেন্দ্রের সহায়তা আসার এক মাসের মধ্যে যোগ্য কৃষকদের উপকরণ ভর্তুকি পৌঁছাতে হবে।
রাজ্যটি কেন্দ্রের কাছে ২০ হাজার কোটি রুপির খরা ত্রাণ, ভিবি-জি রাম জি কর্মসূচিতে বাড়তি ৫০ দিনের কাজ, বেশি সার, অতিরিক্ত ১,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এবং ঋণগ্রহণের সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। রুরাল ভয়েস জানিয়েছে, কৃষকের হাতে শেষ পর্যন্ত কতটা পৌঁছাবে, তা নির্ভর করবে কেন্দ্রের মূল্যায়নের ওপর।
ছবি: Saibhaskar / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)