ধানখেত মাঝে মাঝে শুকাতে দিলে মিথেন নিঃসরণ মোটামুটি অর্ধেকে নামে, আর এর সঙ্গে ইউরিয়া মাটির গভীরে দেওয়া, সুষম সার ও কম নিঃসরণের জাত মেলালে কমে আরও বেশি। দক্ষিণ কোরিয়ার কিয়ংপুক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে করা এক পর্যালোচনা এ কথা বলছে। চীনের জাতীয় ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাময়িকী রাইস সায়েন্সে এটি প্রকাশিত হয়েছে।
অধ্যাপক কিয়ং-মিন কিম (Kyung-Min Kim) এবং ওমান, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় ফসল বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহকর্মীরা নতুন মাঠপরীক্ষা নয়, কয়েক দশকের মাঠ ও গবেষণাগারের ফল একত্র করেছেন। আইপিসিসির বরাত দিয়ে তাঁরা জানান, ধানখেত থেকে বছরে আনুমানিক ৩ থেকে ৫ কোটি টন মিথেন বের হয়, যা মানুষের কারণে সৃষ্ট মোট মিথেনের ৮ থেকে ১২ শতাংশ।
৫ থেকে ১০ সেন্টিমিটার দাঁড়ানো পানিতে মাটি অক্সিজেন পায় না, তখন মিথেন তৈরিকারী অণুজীবের দাপট বাড়ে। ধানগাছের শিকড় ও কাণ্ডের বায়ুনালি দিয়েই খেতের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ মিথেন বাতাসে যায়। ১৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে প্রতি ১০ ডিগ্রি তাপ বাড়লে মিথেন উৎপাদন বাড়ে আড়াই থেকে সাড়ে তিন গুণ, যা উষ্ণ হয়ে ওঠা ধান অঞ্চলের জন্য সতর্কবার্তা।
সবচেয়ে বড় সুফল পানি ব্যবস্থাপনায়। পর্যায়ক্রমে ভেজানো ও শুকানো (এডব্লিউডি) পদ্ধতিতে ফুল আসার আগে-পরে এক সপ্তাহ বাদে পানির স্তর মাটির ১৫ সেন্টিমিটার নিচে নামতে দিয়ে তারপর আবার সেচ দেওয়া হয়। পর্যালোচিত গবেষণায় ক্যালিফোর্নিয়ায় ফলন অপরিবর্তিত বা বেশি রেখেই মিথেন ৬০ থেকে ৮৭ শতাংশ কমেছে। এক মেটা-বিশ্লেষণে মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের সম্মিলিত উষ্ণায়ন প্রভাব কমেছে ৪৬.৯ শতাংশ। তবে ঝুঁকিও আছে: ইতালির এক পরীক্ষায় মিথেন ৯৭ শতাংশ কমলেও ফলন এক-তৃতীয়াংশ কমে এবং নাইট্রাস অক্সাইড পাঁচ গুণ বাড়ে।
দ্বিতীয় উপায় সার। ইউরিয়া মাটির ৭ থেকে ১০ সেন্টিমিটার গভীরে দিলে এক বৈশ্বিক হিসাবে মিথেন কমেছে ২৪.৬ শতাংশ। অ্যামোনিয়াম সালফেটে কমেছে ২৩ থেকে ৩৬ শতাংশ, শুধু নাইট্রোজেনের তুলনায় নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়ামের সুষম প্রয়োগে ৪৮ শতাংশ। বায়োচারের ফল মিশ্র। উচ্চফলনশীল, আগাম পাকা ও জাপোনিকা জাতে সাধারণত নিঃসরণ কম।
লেখকদের উপসংহার, একটি পদ্ধতি যথেষ্ট নয়। মাটির আর্দ্রতা সেন্সর, দূর অনুধাবন ও স্বয়ংক্রিয় পানি নিয়ন্ত্রণের স্মার্ট সেচ এবং নির্ভুল পুষ্টি ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁরা সতর্ক করেছেন, বেশির ভাগ প্রমাণ একটি অঞ্চল বা পদ্ধতিতে সীমিত, আর দক্ষিণ এশিয়াসহ যেখানে ক্ষুদ্র কৃষকেরা বিশ্বের বেশির ভাগ ধান ফলান, সেখানেই এসব পদ্ধতি ছড়িয়ে দেওয়া সবচেয়ে কঠিন।
ছবি: Judgefloro / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)