২০১৮ সালের ৪ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাবুডাইংয়ে বিরল পাখির প্রজনন নিয়ে গবেষণার সময় একটি শিশুগাছের মগডালে তামাটে, কমলা, ধূসর আর সাদার মিশেলের এক পাখিকে পালক পরিষ্কার করতে দেখেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখি ও বন্য প্রাণী প্রজনন ও চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ আ ন ম আমিনুর রহমান। খানিক পরে পাশের আরেকটি শিশুগাছে খুঁজে পান তার ছানা; বড় পাখিটি এসে ছানার মুখে পোকা গুঁজে দিতেই কান্না থামে। সেদিন বাসা আর মা-বাবা দুটিরই সন্ধান পান তিনি। প্রথম আলোয় প্রকাশিত লেখায় তিনি এ অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন।
পাখিটি বে-ব্যাকড শ্রাইক (Lanius vittatus), গোত্র ল্যানিডি। বাংলাদেশে এর প্রচলিত বাংলা নাম নেই; কেউ বলেন তামাপিঠ লাটোরা বা কসাই, পশ্চিমবঙ্গে পচানাক, ছোট কিলাতোড়, খয়েরি ক্যারকাটা বা ছোট লাটোরা। এশিয়ার কসাই পাখিদের মধ্যে এটিই সবচেয়ে ছোট, তাই লেখক 'ছোট লাটোরা' নামটি বেছে নিয়েছেন। এটি দেশের বিরল আবাসিক পাখি, তবে কিছু পাখি শীতে পরিযায়ী হয়েও আসে। লেখক পাখিটিকে প্রথম দেখেছিলেন ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর পূর্বাচলে শিমের মাচায়, সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাজশাহীর পদ্মার ১০ নম্বর চরে।
ছোট লাটোরা লম্বায় ১৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার, ওজন ১৮ থেকে ২৬ গ্রাম। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির চোখ বরাবর চওড়া কালো পট্টি কপাল পর্যন্ত ছড়ানো, মাথার চাঁদি থেকে ঘাড় ছাই-ধূসর, পিঠ মরচে-বাদামি, ডানা-লেজ কালো, ডানায় সাদা ছোপ, দেহের নিচটা সাদা আর পেটের দুই পাশ গাঢ় কমলা-বাদামি। স্ত্রী ও পুরুষ দেখতে একই রকম।
এদের মূলত চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রামে দেখা যায়। কৃষিজমি, বাবলা ও শিশুগাছের সারি, কাঁটাঝোপ আর হালকা বাগানে একা বা জোড়ায় ঘোরে। কীটপতঙ্গ, টিকটিকি, গিরগিটি, সাপ, ব্যাঙ, ইঁদুরের ছানা, ছোট পাখি খায়; অন্য লাটোরার মতো শিকার জ্যান্ত অবস্থাতেই বাবলা, বেল বা কাঁটাগাছের কাঁটায় গেঁথে রাখে। অন্য পাখির ডাকও নকল করতে পারে।
ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর এদের প্রজননকাল। মাটি থেকে ২ থেকে ৩ মিটার উঁচুতে ডালের খাঁজে ঘাস ও লতাপাতা দিয়ে চ্যাপ্টা বাটির মতো বাসা বানায়, ডিম পাড়ে ৩ থেকে ৬টি। ১৪ থেকে ১৫ দিনে ডিম ফোটে, ছানারা উড়তে শেখে আরও ১৪ থেকে ১৫ দিনে। স্ত্রী-পুরুষ মিলে ডিমে তা দেয় ও ছানা পালে। আয়ু সর্বোচ্চ ৮ বছর।
ছবি: Charles J. Sharp / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)