বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের (ডব্লিউসিসিইউ) হিসাবে, ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় বছরে অন্তত ৯ হাজার ৪৬টি কচ্ছপ জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৬৮৫টি, অর্থাৎ প্রায় ৮৫ শতাংশ, জব্দ হয়েছে ২০২৪ সাল থেকে। বিশ্ব সরীসৃপ সচেতনতা দিবসে (২১ অক্টোবর) এ তথ্য সামনে এনেছে দ্য ডেইলি স্টার।
বছরভিত্তিক হিসাবে ২০২১ সালে ৫৫৭টি, ২০২২ সালে ২২৫টি, ২০২৩ সালে ৫৭৯টি, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৬৭৮টি এবং ২০২৫ সালে ৩ হাজার ২২০টি কচ্ছপ জব্দ হয়। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসেই জব্দ হয়েছে ২ হাজার ৭৮৭টি। তবে জব্দ বাড়া মানেই পাচার একই হারে বেড়েছে, তা নয়; সংস্থাগুলোর তৎপরতা ও শনাক্তের সক্ষমতা বাড়াও একটি কারণ হতে পারে।
জব্দ হওয়া কচ্ছপের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইন্ডিয়ান রুফড টার্টল বা কড়ি কাইট্টা, ছয় বছরে অন্তত ২ হাজার ৩১৬টি। এরপর ইন্ডিয়ান ফ্ল্যাপশেল টার্টল বা সুন্ধি কাছিম, ১ হাজার ২৩৭টি। আইইউসিএনের বৈশ্বিক লাল তালিকায় দুটি প্রজাতিই ঝুঁকিপূর্ণ (ভালনারেবল)।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়াগামী এক যাত্রীর লাগেজ থেকে ১ হাজার ১৬৩টি কড়ি কাইট্টা জব্দ হয়। গত ২ জুলাই রাজধানীর রূপনগরের এক বাড়ি থেকে ১ হাজার ১০৪টি বিদেশি প্রাণী জব্দ করে ডব্লিউসিসিইউ, যার মধ্যে পাঁচ প্রজাতির ১ হাজার ৯৬টি কচ্ছপ ছিল।
ইউনিটের পরিদর্শক আবদুল্লাহ আস সাদিক জানান, স্থানীয় সংগ্রহকারীরা জলাশয় থেকে কচ্ছপ ধরে, পরে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত ঘুরে তা আন্তর্জাতিক চক্রের কাছে পৌঁছায় এবং চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারে পাচার হয়। মাংসের চাহিদা ও বিদেশি কচ্ছপ পোষার প্রবণতা এর বড় কারণ; মূলহোতারা প্রায়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে।
ইউনিটের পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, সবচেয়ে বেশি পাচার হওয়া মিঠাপানির কচ্ছপের চারটি প্রজাতি বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬-এ সংরক্ষিত, অনুমতি ছাড়া কেনাবেচা বা রাখা দণ্ডনীয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যার অধ্যাপক এম আবদুল আজিজের মতে, পাচার ঠেকাতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো ও শুল্ক কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ জরুরি।
প্রতিবেদনটি দ্য ডেইলি স্টারের খেংসাপ্রু মারমার।
ছবি: Keyurkarnik / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার





মন্তব্য
(০)