পরিমাণের হিসাবে অস্ট্রেলীয় গরুর মাংসের সবচেয়ে বড় গন্তব্য এখন সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়ার নিজের বাজার নয়। মিট অ্যান্ড লাইভস্টক অস্ট্রেলিয়ার (MLA, এমএলএ) পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে বিফ সেন্ট্রাল জানিয়েছে, দেশে যতটা মাংস ব্যবহার হয় তার চেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো সম্ভবত ইতিহাসে এই প্রথম।
অস্ট্রেলীয় ভোক্তারা ঐতিহ্যগতভাবে দেশের মোট গরুর মাংস উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ নেন; দ্বিতীয় স্থানে থাকত যুক্তরাষ্ট্র, চীন বা কখনো জাপান। বদলের কারণ যুক্তরাষ্ট্রের আমদানির হঠাৎ উল্লম্ফন: তিন বছরের খরায় দেশটির গবাদিপশুর পাল ৭০ বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে, ঘুরে দাঁড়ানোর স্পষ্ট লক্ষণ নেই; ব্রাজিলসহ অন্যরাও বেশি পাঠাচ্ছে।
চলতি বছরের ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ৪ লাখ ১০ হাজার টন গরুর মাংস রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫০ হাজার টন বা ১৫ শতাংশ বেশি; গত বছরের অঙ্কটিও রেকর্ডের কাছাকাছি ছিল। কোনো কোনো বিশ্লেষকের ধারণা, বছর শেষে মোট রপ্তানি ৪ লাখ ৬০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টন ছাড়াবে।
দেশের ভেতরের ব্যবহার সরাসরি মাপা হয় না; মোট উৎপাদন থেকে রপ্তানি বাদ দিয়ে তা অনুমান করা হয়। এমএলএর হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশীয় ব্যবহার ছিল ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫৬ টন (কারকাস ওজন), হাড়ছাড়া ৬৮ শতাংশ ধরে যা চালানযোগ্য ওজনে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৭৮২ টন। একই অর্থবছরে (৩০ জুন পর্যন্ত) যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হয়েছে ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪১৯ টন। এমএলএর এক মুখপাত্র বলেন, ‘সেই হিসাবে ধরে নেওয়া যায়, এই পঞ্জিকাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়ার বাজারের চেয়ে বেশি মাংস নেবে।’ তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, দেশীয় অঙ্কটি প্রকৃত ভোগের একটি আনুমানিক মাপ মাত্র।
এমএলএর প্রধান বিপণন ও যোগাযোগ কর্মকর্তা নাথান লো বলেন, এটি দেশের বাজারের দুর্বলতা নয়, যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদার গল্প। ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ১২ মাসে দেশের খুচরা বাজারে গরুর মাংসের বিক্রিমূল্য ১২ শতাংশ, পরিমাণ ১ দশমিক ১ শতাংশ আর দাম ১০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। তাঁর ধারণা, জীবনযাত্রার খরচের চাপে মানুষ বাইরে না খেয়ে ঘরে খাচ্ছে, তাই বিক্রির একটি অংশ রেস্তোরাঁ থেকে খুচরা দোকানে সরে এসেছে।
বিফ সেন্ট্রাল লিখেছে, খাদ্যাভ্যাসে বৈচিত্র্য আসায় অস্ট্রেলিয়ায় মাথাপিছু গরুর মাংস খাওয়া দীর্ঘ মেয়াদে কিছুটা কমেছে, তবে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যের জোয়ার। প্রতিবেদনটি লিখেছেন জন কনডন।
ছবি: CSIRO / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Beef Central



মন্তব্য
(০)