রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার (roundheaded apple tree borer) নামের একটি পোকার দিকে নজর রাখতে ম্যানিটোবার ফলচাষিদের সতর্ক করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ম্যানিটোবা কো-অপারেটর। প্রদেশে পোকাটি খুব কম দেখা যায়, তবে কেউ টের পাওয়ার আগেই এটি গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। ম্যানিটোবা কৃষি বিভাগ সেপ্টেম্বরের ফল-ফসল প্রতিবেদনে পোকাটির কথা তুলে ধরেছে।
পোকাটি এক ধরনের লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকা। পূর্ণবয়স্ক পোকা জুন-জুলাইয়ে বের হয়ে আপেলগাছ ও সাস্কাটুন ঝোপের মতো আশ্রয় উদ্ভিদের গোড়ায় ডিম পাড়ে, এরপর কীড়া কয়েক মৌসুম ধরে বাকলের নিচে ও কাঠের ভেতরে খেয়ে চলে। এর জীবনচক্র তিন বছর পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। প্রদেশের কীটতত্ত্ববিদ জন গ্যাভলস্কি (John Gavloski) বলেন, অনেক ছিদ্রকারী পোকা মরা বা মরতে বসা কাঠ খায়, কিন্তু এই প্রজাতি জীবন্ত, কখনো কম বয়সী গাছের ভেতরে খায়; ফলে ফল উৎপাদনের সঙ্গে এর সরাসরি সংঘাত।
সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ হলো কাণ্ডের গোড়ার চারপাশে করাতের গুঁড়ার মতো লালচে পদার্থ, যা কীড়া সুড়ঙ্গ কাটার সময় তৈরি হয়। নিচের কাণ্ডে ফাটল বা ছিদ্রও চোখে পড়তে পারে। খেতে খেতে কীড়া একসময় কাণ্ডের চারদিকে জরুরি টিস্যুর একটি বলয় কেটে ফেলে, তখন গাছ ওপর থেকে মরতে শুরু করে; কম বয়সী বাগান বেশি ঝুঁকিতে। কীড়া শুরুতে ছোট থাকে বলে আক্রমণের দ্বিতীয় বা তৃতীয় বছরের আগে ক্ষতি বোঝা না-ও যেতে পারে। গ্যাভলস্কির পরামর্শ, চাষিরা মূলত ওই লালচে গুঁড়ার দিকে চোখ রাখতে পারেন; জুন থেকে আগস্টে পূর্ণবয়স্ক পোকাও খোঁজা যায়।
ম্যানিটোবায় পোকাটি সাধারণ নয়। ফল-ফসল বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি মিনটেনকো জানান, সম্প্রতি দক্ষিণ-মধ্য অঞ্চল থেকে তিনি মাত্র একটি নমুনা দেখেছেন, আর এর আগে প্রায় ১৫ বছর আগে প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে।
দমনের উপায় সীমিত। গ্যাভলস্কি বলেন, বাড়ির আঙিনায় কয়েকটি গাছ থাকলে ছুরি দিয়ে বের হওয়ার ছিদ্রটি বড় করে নমনীয় তার ঢুকিয়ে কীড়াটি ফুটো করে মারা বা টেনে বের করা যায়, কিন্তু বাণিজ্যিক বাগানে তা সম্ভব নয়। ম্যানিটোবা কৃষি বিভাগের তালিকায় আক্রান্ত অংশ সরিয়ে ধ্বংস করাই একমাত্র দমন পদ্ধতি, আর এর কোনো অর্থনৈতিক ক্ষতিসীমা এখনো নির্ধারিত হয়নি। প্রতিবেদনটি করেছেন মিরান্ডা লেবোর্ন।
ছবি: Ben Sale / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: ম্যানিটোবা কো-অপারেটর





মন্তব্য
(০)