মহানবী মুহাম্মদ (সা.) বাল্যকালে মক্কার কাছে আজয়াদ বা জিয়াদ নামের এলাকায় নিজের পরিবারের মেষ চরাতেন, হাদিসে তাঁর নিজের মুখে এ কথা এসেছে। প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় ‘সিরাতের ভূমি’ ধারাবাহিকের দ্বাদশ পর্বে মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক এই চারণভূমির ইতিহাস, নবীজির রাখালজীবন আর জায়গাটির বর্তমান চেহারা তুলে ধরেছেন।
মুসনাদে আহমাদের (হাদিস: ১১৫০৮) বর্ণনায় আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, উট ও ছাগলের মালিকেরা নবীজির সামনে নিজেদের গর্ব প্রকাশ করছিলেন। তখন নবীজি বলেন, গর্ব ও অহংকার উটের মালিকদের, আর প্রশান্তি ও মর্যাদা ছাগলের মালিকদের। তিনি আরও বলেন, নবী মুসা ছিলেন পরিবারের ছাগলের রাখাল, আর তিনিও জিয়াদে পরিবারের ছাগল চরাতেন। সহিহ বুখারির (হাদিস: ২২৬২) বর্ণনায় আছে, আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি যিনি মেষ চরাননি; সাহাবিরা জানতে চাইলে নবীজি বলেন, তিনিও মক্কার ‘কারারিতে’ মেষ চরাতেন।
লেখক জানান, ‘কারারিত’ শব্দের দুটি ব্যাখ্যা আছে: একটি মুদ্রা, অর্থাৎ পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মক্কাবাসীর মেষ চরানো; অন্যটি মক্কার একটি জায়গা। সহিহ বুখারির ভাষ্যকার মুস্তফা আল-বুগা একে মক্কা-সংলগ্ন জিয়াদ বলে চিহ্নিত করেছেন। আবু নুয়াইম আল-ইসবাহানির ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’-তে নবীজির এক স্মৃতিচারণা থেকেও বোঝা যায়, তাঁর রাখালজীবন কেটেছে উঁচু মক্কা ও নিচু মক্কার সংযোগস্থলে, আর জিয়াদ ঠিক সেই জায়গা।
আজয়াদ কাবার খুব কাছের এলাকা। যুবক বয়সে কোরাইশরা যখন কাবা সংস্কার করে, তখন নবীজি আজয়াদ থেকে পাথর বয়ে আনেন, এই বর্ণনাও লেখায় আছে। ‘জিয়াদ’ ও ‘আজয়াদ’ শব্দ দুটি একই মূল ‘জাইদ’ থেকে এসেছে, যার অর্থ উত্তম। ইকরামা ইবনে খালিদ আল-মাখজুমির বর্ণনায় জুরহুম বংশের এক ব্যক্তি বলেছিলেন, তাঁদের উত্তম ঘোড়াগুলো সেখানে চরত বলেই জায়গার নাম আজয়াদ।
সময়ের সঙ্গে আজয়াদের চেহারা বদলেছে। কাবাকে বেদুইন ও শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করতে অটোমান আমলে ১৭৮০ সালে আজয়াদের বুলবুল পাহাড়ে নির্মিত হয়েছিল আজয়াদ কেল্লা। ২০০২ সালে সেই কেল্লা ভেঙে ফেলা হয় এবং সেখানে সৌদি রাজকীয় ফরমানে হাজিদের জন্য গড়ে ওঠে মক্কা ক্লক টাওয়ার কমপ্লেক্স। এলাকার আজয়াদ হাসপাতাল ২০০৯ সালে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। মাবনা আল-হামিদিয়া, মাবনা আওকাফ মালিক আবদুল আজিজসহ কয়েকটি পুরোনো ভবন এখনো দাঁড়িয়ে আছে।
ছবি: ধ্বংসের আগে আজয়াদ কেল্লা, Halis Ak / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)