জলবায়ু লক্ষ্য আর উন্নয়ন অগ্রাধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রেখে আফ্রিকার দেশগুলোর উচিত কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণে (সিডিআর) জায়গাভিত্তিক, বাছাই করা পথ নেওয়া। উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা আফ্রিকান বিশেষজ্ঞদের নেটওয়ার্ক আফ্রিকান টেক ফিউচারস ল্যাব (African Tech Futures Lab)-এর এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাউন টু আর্থ।
সিডিআর মানে বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সরিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণ করা। প্রতিবেদনের মতে, এটি জলবায়ু অর্থায়ন আনতে পারে এবং কৃষি উৎপাদনশীলতা, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থান ও শিল্পে সহায়তা করতে পারে। তবে এ সুবিধা নিশ্চিত নয়: প্রতিটি প্রকল্পকে দেখাতে হবে কারা উপকৃত হবে, তা কীভাবে মাপা হবে এবং জমি, পানি, জ্বালানি, জৈববস্তু ও পুঁজির বিকল্প ব্যবহারের চেয়ে কার্বন অপসারণ ভালো কি না।
আফ্রিকাজুড়ে এ কাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে; বৈজ্ঞানিক প্রমাণ, অবকাঠামো ও কারিগরি সক্ষমতায় দেশগুলোর মধ্যে বড় পার্থক্য আছে, আর এ খাতের প্রযুক্তি, বাজার ও মানদণ্ডের অনেকটাই মহাদেশের বাইরে তৈরি ও নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। বাজারও ভঙ্গুর: স্বেচ্ছাসেবী কার্বন বাজার ও অল্প কয়েকটি কোম্পানি প্রথম প্রকল্পগুলোর অর্থ দিয়েছে, দাম অনিশ্চিত, আর ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রিত বাজারে আফ্রিকার প্রকল্পের প্রবেশ নিশ্চিত নয়। ভূতাত্ত্বিক ও সম্পদ-তথ্য, গবেষণাগার, পর্যবেক্ষণ ও যাচাই ব্যবস্থা এবং দক্ষতার ঘাটতির কথাও বলেছে প্রতিবেদন।
তুলনামূলক কম অবকাঠামো লাগে এবং কৃষির উপকার হতে পারে বলে বায়োচার ও উন্নত শিলা-ক্ষয় (এনহ্যান্সড রক ওয়েদারিং) পদ্ধতিকে পরীক্ষার জন্য বেছে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বায়োচার হলো অক্সিজেন ছাড়া বা খুব কম অক্সিজেনে জৈববস্তু পুড়িয়ে তৈরি কার্বনসমৃদ্ধ পদার্থ; মাটিতে মেশালে এটি কার্বন ধরে রাখতে পারে এবং উপযুক্ত পরিস্থিতিতে মাটির গুণ উন্নত করতে পারে। উন্নত শিলা-ক্ষয় পদ্ধতিতে মিহি গুঁড়া খনিজ জমিতে ছড়িয়ে প্রাকৃতিক রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্রুত করা হয়, যা বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড টেনে নেয়। তবে বড় পরিসরে সুফল নিশ্চিত হওয়ার আগে দুটির জন্যই আরও শক্ত প্রমাণ, নির্ভরযোগ্য পর্যবেক্ষণ ও মাননিয়ন্ত্রণ দরকার বলে সতর্ক করেছে প্রতিবেদন।
বনায়ন ও পুনর্বনায়ন গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়েই থাকছে, তবে সেখানে জমির অধিকার রক্ষা ও কার্বনের সঠিক হিসাবের সুরক্ষাব্যবস্থা দরকার। লেখকদের মত, আফ্রিকার সরকারগুলো কার্বন অপসারণকে উপেক্ষাও করবে না, আবার এর কাছে অতিরিক্ত প্রত্যাশাও রাখবে না; বরং স্থানীয় সম্পদ, অবকাঠামো ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিটি প্রযুক্তি যাচাই করবে। প্রতিবেদনটি করেছেন মধুমিতা পাল।
ছবি: KVDP / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)